ঢাকা   মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

সরকারি স্কুলে ১৬ শিক্ষক মিলে পাস করাতে পারলেন না ১২ শিক্ষার্থীকে!

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

সরকারি স্কুলে ১৬ শিক্ষক মিলে পাস করাতে পারলেন না ১২ শিক্ষার্থীকে!

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে চিলাহাটি প্রামানিক পাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জনই ফেল করেছে। ১৬ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা বিদ্যালয়টিতে পাস করেছে মাত্র ৩ জন। ফলে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ শতাংশে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়টির এমন ফলাফল সামনে আসে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির পুরোনো নাম ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ উল্লেখ রয়েছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে বিদ্যালয়টির ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ৩ জন পাস করেছে। ফেল করেছে ১২ জন।

এর আগে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল হতাশাজনক। ওই বছর ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিল মাত্র ৪ জন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে চিলাহাটি ইউনিয়নের প্রামানিক পাড়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে নামকরণ করে ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বিদ্যালয়’ নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘চিলাহাটি প্রামানিক পাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ রাখা হয়।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেবীগঞ্জ উপজেলায় দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থাকা সত্ত্বেও শুধু শেখ পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকায় বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়েছিল। জাতীয়করণের পরও বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। চলতি ও গত বছরের এসএসসি ফলাফলকে তারা এর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী নাজমুস সাকিব মুন বলেন, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে ১৬ জন শিক্ষক থাকার পরও যদি ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জনই ফেল করে, তাহলে বিষয়টি শুধু ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলের পেছনে শিক্ষার মান, পাঠদান ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়টিতে মোট ১৬ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার পরও বিদ্যালয়টির এমন ফলাফল কেন- এমন প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা।

ফলাফল এত খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. কারিমুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, পরীক্ষার্থীরা তো বলেছে তাদের সব পরীক্ষা ভালো হয়েছে। যারা ফেল করেছে, তাদের সবার ইংরেজিতে ফেল এসেছে। তারা জানিয়েছে সবাই বোর্ড চ্যালেঞ্জ করবে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, আমারা এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোছাঃ রোকসানা বেগম বলেন, বিদ্যালয়টির ফলাফল কেন এত খারাপ হলো, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখতে জেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন