ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৯৫ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৩ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৪ জন।
দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি থাকা সত্ত্বেও যেখানে ফল বিপর্যয় বা একজনও পাস করতে পারেনি, সেখানে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ফল ভিন্ন। প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার ৯৭.৮৯ শতাংশ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯০০।
এর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ছয়জন। এর পরও সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়টির ফলের তথ্য জানা যায়, যা বিগত ৯ বছর ধরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সেরা।
সূত্র জানায়, ২০১৮ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ হওয়ার পর নতুন করে আর জনবল দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও শিক্ষক নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের সংকট। ফলে পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
মঙ্গলবার সকালে (১১ আগস্ট) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টানা ৯ বছর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাদ্য বাজিয়ে উল্লাস করছেন, বিতরণ করা হচ্ছে মিষ্টি।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথিলা বলে, ‘পত্রিকায় লেখেন, আমাদের পর্যাপ্ত টিচার নেই। গরমে ফ্যান সংকটে ভুগছি।’
দশম শ্রেণির ছাত্র মুশফিক বলে, ‘আমাদের এটা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ এখনো আমরা টিনের কক্ষে ক্লাস করি। আমাদের হোস্টেল নেই। জরুরি আবাসিক ব্যবস্থা দরকার।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘আজ যদি আমাদের আরো শিক্ষক থাকত, শতভাগ পাসসহ জিপিএ ৫ আরো বাড়ত। শ্রেণিকক্ষে ফ্যান নেই, বেঞ্চ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সেরা ফল করছি।’
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে না পেয়ে এ বিষয়ে কথা হয় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলামের সঙ্গে।
ইউএনও বলেন, ‘আমি এখানে গত এক বছর আগে যোগদানের পর থেকে দেখছি একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট। কিন্তু ফল ভালো। আমি শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’






