বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের খবরে তার জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মির্জা ফখরুলের নাম রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হওয়ার খবর আসে। এরপর ঠাকুরগাঁও শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ দেখা যায়। শহরের দলীয় কার্যালয় এবং কালিবাড়িতে মির্জা ফখরুলের পৈতৃক বাসভবনে ভিড় করেন অনেকে। এ সময় একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান তারা।
শিক্ষকতা থেকে রাজনীতির শীর্ষে
ছাত্রজীবন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পেশাগত জীবনে তিনি শিক্ষকতা করেছেন। পরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক সংকটে বিএনপিকে সংগঠিত রাখতে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন তিনি।
‘পুরো উত্তরবঙ্গের গৌরব’
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘তিনি আমাদের অবহেলিত জনপদের অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।’
ঠাকুরগাঁও বিএমএর সভাপতি ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক ডা. এবিএম খায়রুল কবীর বলেন, ‘এই সাফল্য কেবল তাঁর একার নয়, ঠাকুরগাঁওসহ পুরো উত্তরবঙ্গের। আমরা নিজেরাই আজ চরম আনন্দিত ও গর্বিত।’
পরিবার ও দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়া
মির্জা ফখরুলের মনোনয়নের খবরে তার পরিবারেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান স্বজনরা। তার ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন বলেন, ‘আমাদের পরিবার অত্যন্ত আপ্লুত। সারাজীবনের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও সততার যোগ্য স্বীকৃতি আজ তিনি পেলেন।’
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে ঘিরে যত প্রত্যাশা
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ‘আজকের দিনটি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দুঃসময়ে দলের জন্য তার অবদান মূল্যায়িত হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পেলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করবেন এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিশিষ্টজনেরা।






