সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনায় জ্ঞাত-অজ্ঞাত ৪৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আলমগীর (২৫) উপজেলার রনতিথা গ্রামের বাবলুর ছেলে। রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) গভীর রাতে বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনায় জামায়াত-এনসিপিকে দায়ী করে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জেলা বিএনপি। অপরদিকে নিজেদের দায় অস্বীকার করে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে জামায়াত ও এনসিপি। হামলার প্রতিবাদে এমপি আয়নুল হকের নির্বাচনী এলাকায় বিক্ষোভ করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এক বিবৃতিতে সংসদ সদস্য আয়নুল হকের ওপর হামলার জন্য জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকে দায়ী করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের ওপর জামায়াত-শিবির ও এনসিপির সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা করে এবং মাননীয় এমপি মহোদয়ের গাড়ি ভাঙচুর করে। ছাত্র রাজনীতি থেকে তিল তিল করে গড়ে ওঠা আপাদমস্তক একজন সংসদ সদস্যের ওপর এমন ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।
অপরদিকে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্য আয়নুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারি। তদন্ত ছাড়াই এই হামলার ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের দায়ী করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারা প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়।
অপরদিকে এমপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির আলী মর্তুজা ও সেক্রেটারি এস এম মুনসুর আলীও। এক বিবৃতিতে তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করার বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তারা।
এছাড়াও এমপি আয়নুল হকের ওপর হামলায় এনসিপিকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ন সদস্য সচিব (দপ্তর) হযরত আলী উসমানের দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ বলা হয়, ঘটনায় তদন্ত ছাড়াই এনসিপির নেতাকর্মীদের দোষারোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার দাবি করা হয়।
এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার ধানগড়া বাজারে এক মতবিনিয় সভা থেকে বেরিয়ে আসার পর এমপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় তিনি অক্ষত থাকলেও তার গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পরপরই চান্দাইকোনা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি। রোববার সকালে তাড়াশেও বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল বিএনপি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, রায়গঞ্জ ট্রেকনিকাল ট্রেনিং সেন্টার চান্দাইকোনাতে নির্মাণের জন্য অফিসিয়ালি চিঠি আসে। বিষয়টা জানতে পেরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকদিন যাবৎ পৌরসভা ও চান্দাইকোনাবাসী পালটাপালটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
বিষয়টি নিরসনের জন্য শনিবার পৌর বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে একটি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। ওই মিটিংয়ে এমপি মহোদয় উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ছাত্র সমন্বয়ক ফয়সাল বিশ্বাস ও ছাত্র সমন্বয়ক তমালের কথাকাটাকাটি হয়। তর্ক-বিতর্ক হলে কমিটি গঠন করার কথা বলে এমপি মহোদয় ফয়সাল বিশ্বাসকে গাড়িতে উঠিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। তখন ধানগড়ার উত্তেজিত জনগণ এমপির গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে এবং বলে আমাদের বলেই যেতে হবে প্রতিষ্ঠানটি আমাদের ধানগড়াতেই করতে হবে। এ সময় সিদ্ধান্ত পরে দেওয়ার কথা চলে আসার সময় উত্তেজিত জনগণের মধ্যে দুই-চারটি ইট মেরেছে। এতে পেছনের গ্লাসটা ভেঙে গেছে।
ওসি মো. আহসানুজ্জামান আরও বলেন, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামি আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।






