চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পারিবারিক বাড়িটি মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) জরিপে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে নগরীর ৬টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় জরিপ চালিয়ে মশার ৯২টি প্রজনন ক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছে সিটি করপোরেশন।
এতে এসব ওয়ার্ডের স্কুল, কলেজ, বাজার, নির্মাণাধীন ভবন, আবাসিক এলাকা, পরিত্যক্ত ভবন, শিল্প এলাকা, দোকান এমনকি মাজারেও মিলেছে মশার প্রজনন ক্ষেত্র। এ তালিকায় আছে মুহাম্মদ ইউনূসের পারিবারিক বাড়িও। চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় ‘নিরিবিলি’ নামের ওই চারতলা বাড়িটির অবস্থান।
স্থানীয়রা জানায়, গত শতকের ষাটের দশকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাবা বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন।
ওই বাড়ির সীমানা ঘেরা প্রাঙ্গণের ভেতরে একটি বড় অংশে পানি জমে আছে। স্থানটি মশার প্রজনন স্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) জরিপকারী দল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চারতলা বাড়িটির সীমানা দেয়ালের ভেতরের একটি অংশে পানি জমে আছে। তবে ভবনটির নিচতলায় কেউ থাকে না।
ওই ভবনের এক নিরাপত্তা রক্ষী বলেন, ‘পাশের নালায় সমস্যার কারণে এখান থেকে পানি নামতে পারে না। পানি জমে থাকায় মশা হয়। আগে সিটি করপোরেশনের লোকজন ওষুধ মারত। এখন নিয়মিত ওষুধ মারে না।’
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রক পরিদর্শক মুহাম্মদ এমরানুল কবির বলেন, ‘ওই বাড়ির নিচতলার আশপাশে কাদা ও মাটি ভরা।
সেখানে পানি জমে ডোবার আকার ধারণ করেছে। সেই পানিও নোংরা।’
‘কারো বাড়ির প্রাঙ্গণ এরকম হলে সেটা আমরা বাড়ির মালিকদের বলে আসি। উনাদেরও জানাব পরিষ্কার করতে। সেখানে আমরা প্রতি সপ্তাহে ওষুধ স্প্রে করি।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘চিহ্নিত ব্রিডিং জোনগুলোতে আমরা নিয়মিত ওষুধ দিচ্ছি।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জরিপ পরিচালিত হয় পাঁচলাইশ, পশ্চিম বাকলিয়া, চকবাজার, উত্তর কাট্টলী, পাথরঘাটা ও জালালাবাদ ওয়ার্ডে।
এই ছয়টি ওয়ার্ডে চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে জরিপ চালিয়ে ৯২টি মশার প্রজনন ক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছে জরিপকারী দল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩১টি স্থান নগরীর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে শনাক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া নগরীর জালালাবাদে ২২টি, পাঁচলাইশে ১৫টি, চকবাজার ও পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে ১০টি করে এবং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে চারটি প্রজনন স্থল পাওয়া গেছে।






