জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে না পেরে চট্টগ্রামের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। আজ সোমবার ব্যাংকটিতে এসে জরুরি প্রয়োজনে টাকা না পাওয়ায় কান্না ও চিৎকার করতে দেখা গেছে কয়েকজন গ্রাহককে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন আমানতের টাকা ব্যাংকে পড়ে থাকলেও সে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা চট্টগ্রামের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ঢুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ সময় ‘আমার মা মারা যাচ্ছে, আমি চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি নিজেও হার্টের রোগী। আমি মরে যাবো এখন। আমার টাকা এখনই দিতে হবে।’ বলতে বলতে চেয়ারে বসে পড়েন মো. আলাউদ্দিন। এ সময় ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আলাউদ্দিনের মতো অনেক আমানতকারী টাকা তুলতে না পারাসহ বিভিন্ন সমস্যার অভিযোগ নিয়ে আজ ব্যাংকের ওই শাখায় জড়ো হন। সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম কমিটির আহ্বানে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। মো. আলাউদ্দিন সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে অসুস্থ মাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসতে হয়েছে; কিন্তু ব্যাংকে আমানতের টাকা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় তা তুলতে না পারায় মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
সংগঠনের নেতারা জানান, গত ১০ থেকে ১৫ দিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করে আমানতকারীদের সমস্যার কথা শুনেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন শাখায় টাকা উত্তোলনসহ ব্যাংকিং সেবা নিতে গিয়ে গ্রাহকেরা অসহযোগিতার মুখে পড়ছেন।
আজকের কর্মসূচিতে আমানতকারীদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন সংগঠনের নেতারা। সংগঠনটির দাবি, আলোচনার পর উপস্থিত আমানতকারীদের মধ্যে প্রায় ৬৬ জনের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহসভাপতি শারমিন আক্তার ও অর্থ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আমানতকারীরা বলেন, নিজেদের জমা করা টাকা প্রয়োজনের সময় তুলতে না পারায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশেষ করে চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে না পারায় অনেকেই সংকটে পড়েছেন। কর্মসূচিতে কেরানীহাট, মহেশখালী, পটিয়া ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন আমানতকারী অংশ নেন।
অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমা করা টাকা তুলতে না পেরে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। অনেক গ্রাহকের জরুরি প্রয়োজন থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারছেন না। এ অবস্থার দ্রুত সমাধান করে আমানতকারীদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’
এদিকে, ওই ব্যাংকের হালিশহর শাখায় গ্রাহকদের বিক্ষোভের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এতে কয়েকজন গ্রাহককে কান্না ও চিৎকার করতে দেখা যায়। এক নারী গ্রাহক ওই শাখার ম্যানেজারকে বলেন, আপনারাই তো চাচ্ছেন আমাদের মেরে ফেলার জন্য। আমাদের টাকা ফেরত চাই।
আরেক গ্রাহক বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আমির খসরু সাহেব আপনাকে অবগত করছি। আমি আপনার চট্টগ্রামের একজন বিধবা মহিলা। আপনার বোন, আপনার মেয়ে, আপনার কন্যা, যেভাবে পারেন আমার মতো বিধবা মহিলার পাশে এসে দাঁড়ান। আমাদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।’
আরেক নারী গ্রাহককে বলতে শোনা গেছে, ‘আগে অনেকবার এসেছি, টাকা পায়নি। আজ টাকা নিতে এসেছি। আমি সবকিছুর জন্য প্রস্তুত। দরকার হলে আমি এখানেই মরে যাবো।’
এ প্রসঙ্গে সিএমপির হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান, ‘আজ অনেক গ্রাহক তাদের জমানো টাকা ফেরত চেয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের হালিশহর শাখায় বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় অনেক গ্রাহক কান্নকাটি করেন। ক্ষোভের বিষয়টি আমি আগে থেকে অবগত হয়ে পুলিশ পাঠাই।






