নাটোরের লালপুরে ফুটবল খেলায় অতিথি না করাকে ঘিরে ‘১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’ এলাকায় এমন ঘোষণা দেওয়া বহিষ্কৃত সেই ছাত্রদল নেতা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও ভুয়া’ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলী।
উপজেলার গোপালপুর রেলগেট এলাকায় অবস্থিত গোপালপুর পৌরসভার বিএনপি-যুবদল নেতাদের বসার সাইনবোর্ডবিহীন কার্যালয়ে আজ বুধবার এই সংবাদ সম্মেলন করেন মারুফ আলী। একপর্যায়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে বাধা দিলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২১ আগস্ট কেশবপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তাঁর নামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও ভুয়া’ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৯ আগস্ট কেশবপুরের বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তিনি গ্রামের গোরস্থানের জন্য সরকারি বরাদ্দের ৩৫টি গাছ ও পাঁচ বস্তা সারের হিসাব গ্রামপ্রধান মোয়াজ্জেম হোসেন গোকুলের কাছে জানতে চান বলে দাবি করেন।
মারুফ আলীর অভিযোগ, হিসাব চাইলে গোকুল তাঁকে ‘তুমি কে, এসব হিসাব দেব’ বলে জবাব দেন এবং বিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত হয়ে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।বহিষ্কৃত এ ছাত্রদল নেতার দাবি, ‘পাঁচ বস্তা সারের মধ্যে এক বস্তা গোরস্থানে ব্যবহারের পর বাকি চার বস্তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।’
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়টি বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
মারুফ আরও বলেন, ওই বিরোধের জের ধরে ২১ আগস্ট ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। তাঁকে প্রধান বা বিশেষ অতিথি হতে চাওয়া এবং গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলামকে প্রধান অতিথি করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।মারুফ আলী বলেন, যেখানে আমন্ত্রণপত্রে কোনো প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথির নামই নেই, সেখানে আমি কীভাবে প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হওয়ার দাবি করব? মূলত খেলাকে কেন্দ্র করে আমি ভিলেজ পলিটিকসের শিকার হয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে মারুফ আলী আরও দাবি করেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধী লালপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হারুন রশিদ পাপ্পু বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের বহিষ্কারের প্রসঙ্গে মারুফ আলী বলেন, ১৪ আগস্ট বাউয়েটের একটি অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শরমীন পুতুলের পিএস আব্দুস সালামের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। ওই সময় তাঁকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বহিষ্কৃত এ নেতা বলেন, ‘১৯৯৭ সালে বাবার কাঁধে চড়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছে। ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে জীবনের সোনালি সময়, অর্থ-বিত্ত এবং অনেক সুযোগ হারিয়েছি। বিগত সরকারের সময়ে শুধু ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে আমার ১৩টি সরকারি চাকরি হয়নি।’
মারুফ আলী আরও দাবি করেন, ‘ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদকে ব্যবহার করে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনকে ফোন করে তাঁকে বহিষ্কারের জন্য প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শরমীন পুতুল নির্দেশ দিয়েছেন, এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।’
তাঁর দাবি, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে প্রতিমন্ত্রীরও মানহানি হয়েছে।’
নিজের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশাবাদ ব্যক্ত করে মারুফ আলী বলেন, আমার বহিষ্কারের বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের বিষয়ে কেশবপুর গ্রামপ্রধান মোয়াজ্জেম হোসেন গোকুল বলেন, ‘মারুফ আলী আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে গোপালপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, রেলগেট দলীয় কার্যালয়টি সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা মারুফ আলী সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় নেতা-কর্মীর বাধার সম্মুখীন হন। পরে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সালাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠন তাঁকে বহিষ্কার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতার অভিযোগের বিষয়ে লালপুর উপজেলার বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।






