যৌতুক দাবিতে স্ত্রী বর্ণা খানমকে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ড. এমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ তালুকদারের বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার এ ঘটনায় বর্ণার মায়ের লিখিত অভিযোগের পর গতকাল সোমবার বিকেলে পুলিশ বর্ণাকে উদ্ধার করে তাঁর মায়ের জিম্মায় দিয়েছে।
অভিযুক্ত সাহেদ তালুকদার (২৩) টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হেদায়েত শেখের ছেলে। লিখিত অভিযোগে তাঁর বাবার নাম হেদায়েত তালুকদার উল্লেখ করা হয়েছে।
সাহেদ ও তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বর্ণার মা জেসমিন বেগম।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ২০২৫ সালের ২৬ মে গোপালগঞ্জ আদালতের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সাহেদ তালুকদারের সঙ্গে লেবুতলা গ্রামের মৃত আনসার শেখের মেয়ে বর্ণা খানমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সাহেদ বিভিন্ন সময় স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাহেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্ণাকে মারধর করতেন। মেয়ের সংসারের কথা ভেবে জেসমিন বেগম বিভিন্ন সময় নগদ টাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জেসমিন বেগমের অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট তিনি ও তাঁর বড় মেয়ে বর্ণাকে আনতে সাহেদের বাড়িতে গেলে তাঁদের সামনে বর্ণাকে মারধর করে আটকে রাখা হয়।
জেসমিন বেগম বলেন, ‘ওরা নিজেরা কোর্ট ম্যারেজ করেছিল। বিয়ের পর থেকেই জামাই কথায় কথায় টাকা দাবি করে। আগে অনেক টাকা-পয়সা দিয়েছি, কিন্তু এখন আর দিতে পারি না। টাকা না পেলেই আমার মেয়েকে মারধর করে। মেয়েকে আনতে গেলে আমাকেও গালাগালি করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এসব কারণে যদি আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, তাহলে সে দায় কে নেবে? আমি আর ওর কাছে মেয়ে দেব না।’
বর্ণা খানম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই সাহেদ সব সময় আমার কাছে টাকা-পয়সা চাইত। এমনকি আমার বাবার বাড়ি থেকেও অনেকবার টাকা চুরি করেছে। সাহেদ নিয়মিত নেশা করে আমাকে মারধর করে। আর তার মা মাসুলা বেগম এসব কাজে সায় দেয়। কোনো কাজ না করে শুধু টাকা চায়, আর না দিলে বিএনপির দলীয় পদের পাওয়ার দেখায়। কয়েক দিন আগেও আমার মা ও বড় বোনের সামনে আমাকে বেধড়ক মারধর করে আটকে রেখেছে। আমি ওর সঙ্গে সংসার করতে চাই না।’
বর্ণার বড় বোন কল্পনা খানম বলেন, ‘মা আর আমি ছোট বোন বর্ণাকে আনতে গেলে তাকে মারধর করে আটকে রাখে সাহেদ। আর চরম খারাপ ব্যবহার করে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে আমার মা টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করে। তখন পুলিশ গিয়ে আমার বোনকে উদ্ধার করে মায়ের জিম্মায় দিয়ে যায়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সাহেদ তালুকদার বলেন, ‘আমি কখনো শাশুড়ির কাছে যৌতুক দাবি করিনি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ায় কখনো কখনো বেশি কথা বলেছি। তারা আমার সংসার ভাঙার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। পুলিশ এসে আমার স্ত্রীকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়েছে। আইনি ও সামাজিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করব।’
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের পর প্রাথমিকভাবে বর্ণাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে তাঁর মা জেসমিন বেগমের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






