রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং জামায়াত নেতা ড. মো. ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্মদিবসে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেলেও, ওই দিনগুলোতে কলেজের হাজিরা খাতায় তাঁর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে।
ড. ওবায়দুল্লাহ রাজশাহী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি এবং আসন্ন গোদাগাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত মেয়রপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দিলেও ড. ওবায়দুল্লাহর ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে কর্মদিবসে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির তারিখসমূহ-২০, ১৮, ১৬, ১৩, ১০, ৬, ৫, ৪ ও ৩ আগস্ট এবং ৩০, ২৮, ২৩, ২১ ও ১৯ জুলাইসহ বিভিন্ন তারিখে তিনি দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে ৫ ও ৬ আগস্ট সংরক্ষিত ছুটি উল্লেখ থাকলেও অন্যান্য কর্মদিবসের কার্যদিবসেও তার কলেজে উপস্থিতির হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর রয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট কলেজে গিয়ে ড. ওবায়দুল্লাহ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম কাউকেই পাওয়া যায়নি। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এস এম সাদিকুল ইসলাম জুলাই ও আগস্ট মাসের হাজিরা খাতা দেখালে ফেসবুকের কর্মসূচির সঙ্গে স্বাক্ষরের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। তবে মে ও জুন মাসের খাতা দেখাতে অন্য এক শিক্ষক বাধা দেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম সাদিকুল ইসলাম জানান, ড. ওবায়দুল্লাহ অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে ছুটি জানিয়েছেন। তবে হাজিরা খাতা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির এই অসামঞ্জস্যের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
কলেজে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক মাত্র ১৭ জন। সব বিভাগের জন্য আইসিটি আবশ্যিক বিষয় হলেও এ বিষয়ে একমাত্র শিক্ষক ড. ওবায়দুল্লাহ। রুটিন অনুযায়ী প্রতিদিন আইসিটি ক্লাস থাকার কথা থাকলেও নিয়মিত ক্লাস হয় না। তাছাড়া কলেজের কম্পিউটার ল্যাবের কম্পিউটারগুলো নষ্ট থাকায় এবং ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি শেষ করা ও ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। গাড়ি চালানোর ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান অভিযুক্ত শিক্ষক ড. ওবায়দুল্লাহও। অন্যদিকে, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মালেকের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) মোহা. সাদিকুল ইসলাম জানান, কোনো শিক্ষক ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকলে তিনি অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। সুনির্দিষ্ট এই অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।






