ঢাকা   রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

কোটিপতি কনস্টেবলের হাত ধরে ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে আ.লীগের শীর্ষ নেতারা

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৫, ০২:৪৬ পিএম

কোটিপতি কনস্টেবলের হাত ধরে ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে আ.লীগের শীর্ষ নেতারা

রাজধানী ঢাকা ও নিজ এলাকায় একের পর এক রাজকীয় বাড়ি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং অর্ধশতাধিক বিঘা জমির মালিক হয়েছেন পুলিশের সাবেক কনস্টেবল জেএম খালেক। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাধারণ এক প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে আসা এই খালেক বর্তমানে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক।

শাপলা তোলা থেকে কনস্টেবল চাকরি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার শাখারীকাঠি গ্রামের এস্কান্দার জমাদ্দারের ছেলে জেএম খালেক শৈশবে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যান। স্কুলজীবনে পুকুর ও বিলের শাপলা বিক্রি করে লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছিলেন। কোনোমতে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।

নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ভাগ্য ফেরানো

বরিশাল ও ঝালকাঠিতে চাকরির পর ডিএমপিতে বদলি হলে তার পরিচয় হয় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয়ের সঙ্গে। সেই সূত্রে তিনি জড়িয়ে পড়েন পুলিশে নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পদে নিয়োগে তদবির ব্যবসায়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীদের কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাত্র ৮–৯ বছরের মধ্যেই তার সম্পদের পাহাড় গড়ে ওঠে। ঢাকার মিরপুরে দুটি ফ্ল্যাট, বসুন্ধরায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ছাড়াও মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। আরও জমি ও ভবন কেনা-বেচার প্রমাণ মিলেছে বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায়।

গাড়ি, প্লট ও জমির মালিকানা

প্রভাব খাটিয়ে কোটি টাকার গাড়ি কিনে অন্যের নামে ব্যবহার করছেন খালেক। অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো গাড়িও ব্যবহার করেছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকার বাইরে ও নিজ এলাকায় তার নামে বা স্বজনদের নামে অর্ধশতাধিক কৃষিজমি রয়েছে।

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, জেএম খালেক শুধু দেশে নয়, বিদেশেও অর্থ পাচার করেছেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এমনকি ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন বলে জানা যায়।

অভিযোগ ও গ্রেপ্তার এড়ানো

কিছুদিন আগে যৌথ বাহিনী তার বাসায় অভিযান চালায়, তবে আগাম খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে দুদক ও সাবেক আইজিপির কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে তা ধামাচাপা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। করোনার সময় তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন, তবে এখনো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি

মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন বলেন—

“কনস্টেবল পদে থেকে জেএম খালেক যে সীমাহীন সম্পদ অর্জন করেছেন, তা দুদকের তদন্ত করা উচিত।”

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম জানান—

“আওয়ামী লীগের বড় অর্থদাতা খালেককে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।”

উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মনোয়ার বলেন—

“সে যতই ধূর্ত হোক, আইনের আওতায় আসতে হবে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রক্ষায় কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় লুকাতে চাইছে।”

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন