টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় নতুন মোড় নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পিসিবির অবস্থান। নিরাপত্তার কারণে ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়েছিল আইসিসি। এর প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কটের যে ঘোষণা পাকিস্তান দিয়েছিল, তা থেকে সরে আসতে এখন তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে তারা। গতকাল দিনভর বিষয়টি নিয়েই আলোচনা চলে। আলোচনায় আরো নতুন মাত্রা যোগ করেন ঝটিকা সফরে লাহোরে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার উদ্দেশ্যেই আমিনুলের লাহোরে যাওয়া। সেই সমঝোতা কেমন হতে পারে, সেটিও ব্যাখ্যা করেছে সূত্রটি। বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যেহেতু পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে আইসিসি। এতে বাংলাদেশেরও লাভ রয়েছে। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশের যে সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, সেগুলো থেকে মুক্তি মিলতে পারে। যেমন—আইসিসির বার্ষিক রাজস্ব থেকে প্রাপ্য অর্থ পাওয়া কিংবা ভবিষ্যতে বিদেশি দলগুলোর বাংলাদেশ সফর নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি না করার নিশ্চয়তা।এটিকেই ‘পারস্পরিক সমঝোতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বৈঠকের জন্যই পরশু রাতে হঠাৎ করে জরুরি বার্তা পান আমিনুল। সেটি পেয়েই মধ্যরাতে লাহোরের উদ্দেশে রওনা দেন বিসিবি সভাপতি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানায়, গতকাল ভোরে লাহোরে পৌঁছেন তিনি। সেখানে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির তাঁকে স্বাগত জানান।
আইসিসির এই জরুরি বৈঠকে পাকিস্তানের পাশাপাশি অন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এর মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। বাংলাদেশের উপস্থিতির কারণটি বেশ স্পষ্ট। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই আলোচনার সূত্রপাত। আলোচনা এত দূর গড়ায় যে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপেই অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। এই পুরো ঘটনায় শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিল পাকিস্তান। আইসিসির ভোটাভুটিতে নিজেদের ভোটের বাইরে বাংলাদেশ যে একটি ভোট পেয়েছিল, সেটিও পাকিস্তানের। এখানেই শেষ নয়—পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রথমে জানা যায়, বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তানও। যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি, তবে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানায় পাকিস্তান সরকার।
এই সিদ্ধান্তের পর ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, আইসিসি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এই প্রতিনিধিকে পিসিবির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আইসিসি। পাকিস্তানের অনড় অবস্থানের পরই গতকাল আইসিসির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের আগে পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গেও সভায় বসেন আমিনুল।






