এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও হাই লাইন ডিফেন্স ধরে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেষ্টা করছিল বাংলাদেশ। সেই কৌশলে গোল শোধের কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বল দখলে এগিয়ে থেকেও রক্ষণে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে উজবেকিস্তান উল্টো একের পর এক গোল করে ব্যবধান বাড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত নারী এশিয়ান কাপে উজবেকিস্তানের কাছে ৪–০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। উজবেকিস্তানের হয়ে ১০ নম্বর জার্সিধারী দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা হ্যাটট্রিক করেছেন।
এই হারের মধ্য দিয়ে গ্রুপপর্বে তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো আফঈদা খন্দকারদের।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারানোই ছিল বাংলাদেশের একমাত্র পথ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পার্থ রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
শুরুর দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় উজবেকিস্তান। ১০ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায়। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়। নিলুফার কুদ্রাতোভার পাসে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান। গোলরক্ষক মিলি আক্তারের পক্ষে সেই শট ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
এরপরও উজবেকিস্তান আক্রমণ ধরে রাখে। ১৮ মিনিটের মধ্যে তিনটি ফ্রি-কিক পেলেও বাংলাদেশ সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ২২ মিনিটে তুর্দিবোয়েভার নেওয়া ফ্রি-কিক বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। দুই মিনিট পর আবারও বিপজ্জনক আক্রমণে এগিয়ে যাচ্ছিলেন খাবিবুল্লায়েভা, তবে ছয় গজের সামনে দুর্দান্ত ট্যাকলে তাকে থামিয়ে দেন মারিয়া মান্দা।
৩১ মিনিটে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন উজবেক গোলকিপার। ফিরতি বলে তহুরা খাতুনের ওভারহেড কিকও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশ কিছুটা চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়। ৪২ মিনিটে ভালো একটি সুযোগ এসেছিল। তহুরা বক্সে বল পেলেও নিজে শট না নিয়ে পাস দেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে। তবে আনিকার ডান পায়ের শট উজবেক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়। সেই কর্নার থেকে বল পেয়ে মারিয়া মান্দা বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিলেও তা অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।
বিরতির পরও একই গতিতে খেলতে শুরু করে বাংলাদেশ। কয়েকবার উজবেকিস্তানকে চাপেও ফেলে। তবে গোলের দেখা পায়নি দলটি। বরং সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় উজবেকিস্তান। খেলোয়াড় বদল করেও প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি কোচ পিটার বাটলার।
৫০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েও সফল হতে পারেননি ঋতুপর্ণা চাকমা। দুই মিনিট পর মনিকা চাকমার সামনেও সুযোগ এসেছিল, কিন্তু তার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৬২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে উজবেকিস্তান। বাঁ প্রান্ত দিয়ে উমিদা জোইরোভার পাস থেকে বল পান দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা। গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি।
চার মিনিট পর আবারও জালে বল জড়ান খাবিবুল্লায়েভা। বাংলাদেশের হাই লাইন ডিফেন্স ভাঙতে কোনো অসুবিধা হয়নি উজবেকদের। খাবিবুল্লায়েভার পাস থেকে বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন তিনি।
৭২ মিনিটে ভিএআর পর্যালোচনার পর উজবেকিস্তানের একটি গোল বাতিল হলে বড় ব্যবধান থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশও চেষ্টা চালিয়ে যায়। ৮২ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা সৌরভী আকন্দ প্রীতির বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট উজবেক গোলকিপার ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন।
তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে আবারও গোল পায় উজবেকিস্তান। নিলুফার কুদ্রাতোভা বক্সের মাঝখানে উমিদা জোইরোভার হেড পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে জালে পাঠান। ইরানি রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের স্বপ্নের সেখানেই ইতি ঘটে।






