মেসি কেন গোল করে সাংবাদিকের দিকে দৌড়ে গিয়েছিলেন?
স্পোর্টস ডেস্ক : আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে লিওনেল মেসির দ্বিতীয় গোলটা এসেছে খেলার একদমই শেষ মুহূর্তে। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক সেকেন্ড আগের ওই গোলটির পর মেসি ছুটে যান গোলপোস্টের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাংবাদিকের দিকে। আর্জেন্টাইন মহাতারকার এমন কাজে আলোচনায় এসেছেন ওই ব্যক্তি, সমর্থকদের মনে কৌতুহল তৈরি হয়েছে তার পরিচয় নিয়ে।
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে মেসির করা দ্বিতীয় গোলটা ছিল অনেকগুলো কারণে বিশেষ। প্রথমত, গোলটি সহজে আসেনি, গোলরক্ষক এবং কয়েকজন ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে ফিরতি বলে শট নিয়ে গোলটি করেছেন মেসি। দ্বিতীয়ত গোলটি এসেছে একেবারেই শেষ মুহূর্তে। শেষ বাঁশি বাজার তখন কেবল কয়েক মুহূর্তই বাকি। তৃতীয়ত, গোলটি করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলসংগ্রাহকের তালিকায় সর্বোচ্চ স্থানে থেকেও ২ গোলের লিড নিয়ে নিলেন মেসি।
এমন গোলের পর সাধারণত ফুটবলাররা ছুটে যান সতীর্থদের কাছে কিংবা কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে। কিন্তু মেসি গেলেন গোলপোস্টের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকের কাছে। কাছে গিয়ে হাত মেলালেন তার সঙ্গে। আর এই মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধরা পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মেসির সঙ্গে এই সাংবাদিকের যোগসূত্র নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
সাংবাদিকের নাম হোয়াকিন ব্রুনো। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদক। ম্যাচের পর নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ব্রুনো বলেছেন, ঘটনাটি এখনও তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।
টিওয়াইসিতে ব্রুনে লিখেছেন, গোলপোস্ট থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিলেন তিনি। গোল হতেই তিনি নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। তিনি লেখেন, ‘পাগলের মতো চিৎকার করে উঠি, যেন আমি কোনো সাংবাদিক নই, আর্জেন্টিনারই একজন সমর্থক।’
ব্রুনোর ভাষায়, ‘দেখি, লিও আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি তখনো চিৎকার করছি আর সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কাছে এসে আমার সঙ্গে হাত মিলিয়ে উদ্যাপন করল।’
ঘটনার পরপরই স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ব্রুনো বলেন, ‘এখনও কাঁপছি, পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারিনি। লিও এসে এখানে দ্বিতীয় গোল উদ্যাপন করল, আমাকে চিৎকার করতে দেখে হাত মেলাল। বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা আমার সাংবাদিক জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রুনো লেখেন, ‘একজন আর্জেন্টাইন ফুটবলপ্রেমী, একজন মেসি–ভক্তের জন্য এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই মুহূর্ত আর সেই ছবিটা আমি সারা জীবন মনে রাখব।’






