আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে আইসিসি যে অবস্থান নিয়েছে, তাকে ভারতের সাম্প্রদায়িক ও উগ্রপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল বলে মনে হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল আইসিসির পাঠানো চিঠির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন যে, মোস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি ও সমর্থকদের জাতীয় জার্সি পরার ওপর আইসিসির তথাকথিত ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’র শর্তকে তিনি চরম বৈষম্যমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট।
বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আসিফ নজরুল অভিযোগ করেন যে, আইসিসি একটি বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে নিরপেক্ষ আচরণ না করে ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর দাবিকেই বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আইসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে—দলে মোস্তাফিজ থাকলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এবং লাল-সবুজ জার্সি পরা সমর্থকদের ওপর হামলার আশঙ্কা আছে। উপদেষ্টার মতে, আইসিসির এমন অবস্থান প্রমাণ করে তারা ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আইসিসি ও ভারত উভয়েই একই সুরে কথা বলছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ক্রীড়া উপদেষ্টা প্রশ্ন তুলেছেন যে, আইসিসি কি কোনো একক দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে কি না। তিনি বলেন, “আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের সেরা খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে কিংবা সমর্থকদের পরিচয় লুকিয়ে ভারতে খেলতে যাব, তবে তারা ভুল করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, ভারতের মাটিতে গত দেড় বছর ধরে চলা অব্যাহত বাংলাদেশ-বিদ্বেষী প্রচারণাকে আইসিসি নিরাপত্তা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আসলে ভারতের বর্তমান অসহিষ্ণু পরিবেশকেই আড়াল করতে চাইছে।
আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইসিসি যদি ভারতের প্রভাবে পরিচালিত না হয়ে একটি প্রকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে কাজ করতে চায়, তবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অবিলম্বে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করতে হবে। ক্রিকেট বাজারের বড় অংশীদার হওয়ার অজুহাতে ভারত যে একচেটিয়া আধিপত্য দেখাচ্ছে, আইসিসি সেই একই ‘উদ্ভট’ যুক্তি দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকার দেশের সম্মান ও সার্বভৌমত্ব জলাঞ্জলি দিয়ে এমন বৈষম্যমূলক টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






