ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ক্যারিয়ারজুড়ে একটাই বড় প্রশ্ন ছিল—কবে আসবে তার প্রথম শিরোপা? টটেনহ্যামের হয়ে দারুণ সব পারফরম্যান্স সত্ত্বেও পদকহীন ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বারবার সেমিফাইনাল বা ফাইনালে হেরে ফিরেছেন হতাশ হয়ে। অবশেষে সেই অধ্যায় শেষ হলো বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে। বুন্দেসলিগার শিরোপা জিতে প্রথমবারের মতো বড় কোনো ট্রফি হাতে তুললেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।
গ্যালারি থেকে শিরোপার আনন্দ
কিন্তু বুন্দেসলিগার শিরোপা নিশ্চিত করার ম্যাচে ছিলেন না কেইন। কার্ডসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞায় লিপজিগের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেননি। গ্যালারি থেকে খেলা দেখা এই তারকা ম্যাচ শেষে মজার ছলে বলেন, “এটা যেন আমার ক্যারিয়ারের প্রতিচ্ছবি! তবে চিন্তা করো না, আমি উদযাপন করব সবার চেয়ে জোরে!” শিরোপা নিশ্চিত হয় একদিন পর, যখন লেভারকুজেন ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে ড্র করে। সেই মুহূর্তেই শুরু হয় কেইনের স্বপ্নপূরণের উৎসব। সতীর্থ এরিক ডায়ারসহ অন্যান্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে উদযাপনে মাতেন কেইন।
টটেনহ্যাম থেকে ট্রফিবিহীন পথচলা
টটেনহ্যামের হয়ে এক যুগের বেশি সময় কাটিয়েও কোনো ট্রফি জিততে পারেননি কেইন। ক্লাবের জার্সিতে ৪৩৫ ম্যাচে ২৮০ গোল করেও থেকে গিয়েছিলেন সাফল্যের বাইরে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ও ইউরো ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে পৌঁছে ফিরেছেন খালি হাতে। এমনকি তিনবার প্রিমিয়ার লিগ গোল্ডেন বুট জেতার পরও ট্রফির ঘর ছিল শূন্য।
বায়ার্নে এসে নতুন অধ্যায়
২০২৩ সালের আগস্টে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে রেকর্ড ট্রান্সফারে যোগ দেওয়ার পরও শুরুটা ছিল হতাশাজনক। জার্মান সুপার কাপ ও ডিএফবি পোকাল থেকে বিদায় নেয় বায়ার্ন। এমনকি বুন্দেসলিগার শিরোপাও দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চিত ছিল। তবে শেষদিকে জার্মান লিগ জয় করে রক্ষা হয় কেইনের ‘শিরোপা ভাগ্য’। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিতে হয়।
জার্মান ফুটবল বিশ্লেষক তাওফিক খালিল বলেন, “অনেকে বলেছিল, কেইন আসার পর বায়ার্নের শিরোপা-যাত্রা থেমে যাবে। কিন্তু সে নিজেকে প্রমাণ করেছে।”
জার্মান জীবনে খাপ খাওয়ানো ও সাফল্য
জার্মান সংস্কৃতিতে দ্রুতই মানিয়ে নিয়েছেন কেইন। অক্টোবরফেস্টে অংশ নিয়েছেন, ভাষা শেখার চেষ্টা করছেন, এবং সতীর্থদের সঙ্গে গলফ খেলার মতো সময়ও কাটাচ্ছেন। ক্লাব ও সমর্থকদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন গভীর সম্পর্ক।
পারফরম্যান্সের দিক থেকেও ছিলেন দুর্দান্ত। বুন্দেসলিগায় করেছেন সর্বোচ্চ ২৪ গোল, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ গোল এবং ১৫টি অ্যাসিস্ট। প্রতি ৭২ মিনিটে একটি করে গোল বা অ্যাসিস্ট করে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন।
বায়ার্নের সম্মানীয় সভাপতি উলি হোয়েনেস বলেন, “সে যুদ্ধ করে, চেষ্টা করে, গোল করে—এ অর্জন তারই প্রাপ্য।” ক্লাব ম্যানেজার ভিনসেন্ট কোম্পানি যোগ করেন, “সে এখনো তরুণদের মতো লড়াই করে।”
শেষ পর্যন্ত ‘চ্যাম্পিয়ন’ হ্যারি কেইন
ছয়বার ফাইনালে হেরে যাওয়া এই ফুটবলার অবশেষে পেয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত সাফল্য। শুধু একজন দুর্দান্ত গোলদাতা নয়, হ্যারি কেইন এখন একজন চ্যাম্পিয়নও। মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরে বিনয়, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণে হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় এক চরিত্র।






