ঢাকা   সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ভোট অন্য মার্কায় গেলে রেহাই নাই, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতার হুমকিতে তোলপাড়

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৯ এএম

ভোট অন্য মার্কায় গেলে রেহাই নাই, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতার হুমকিতে তোলপাড়
নির্বাচনী প্রচারকালে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে সোনারগাঁওয়ের ছোট সাদিপুর এলাকায় | ছবি: ভিডিও থেকে পাওয়া

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের রাজনৈতিক পরিবেশ। তবে এই উত্তাপ এবার রূপ নিয়েছে সাধারণ ভোটারদের আতঙ্কে। ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় এক বিএনপি নেতার দেওয়া প্রকাশ্যে হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে এলাকাটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভাইরাল ভিডিওতে কী আছে?
ঘটনাটি ঘটেছে সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদিপুর এলাকায়। গত শুক্রবার বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। সেখানেই তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্য করে এক বিতর্কিত ও ভীতিপ্রদ বক্তব্য দেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নিজাম উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ধরতে পারব কে কে অন্য মার্কায় ভোট দিয়েছেন। আপনাদের পেছনে গোয়েন্দা লাগানো আছে। আল্লাহর কসম করে বলছি, আপনারা ধানের শীষের ছায়াতলে আসেন। যদি নির্বাচনের পরে দেখি অন্য মার্কায় ভোট গেছে–কোনো রেহাই নাই।”

প্রকাশ্য জনসভায় একজন রাজনৈতিক নেতার এমন বক্তব্যে হতবাক স্থানীয়রা। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তা টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়।

টাকা বিতরণের নতুন বিতর্ক
শুধু হুমকিই নয়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের আরও একটি অভিযোগ উঠেছে এই আসনে। বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে এক অসুস্থ নারীকে টাকা দিতে দেখা গেছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে প্রার্থীর হাত থেকে টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভোটারদের মাঝে চরম আতঙ্ক
নিজাম উদ্দিনের এমন ‘গোয়েন্দা’ এবং ‘রেহাই নাই’ মার্কা বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও শঙ্কা কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার জানান, “ভোট আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু প্রকাশ্যে যদি বলা হয় পেছনে গোয়েন্দা আছে এবং অন্য মার্কায় ভোট দিলে খবর আছে, তাহলে আমরা কেন্দ্রে যাব কীভাবে?”

সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এটি সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং ভোটারদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ ভোটার এবং স্থানীয় সুশীল সমাজ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, এখনই যদি এসব হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে নির্বাচনের দিন বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!