ঢাকা   রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বঙ্গভবনে রক্ত ঝরুক চেয়েছিলাম! ইউনূস সরকারের অপসারণ চক্রান্ত ও চরম অসহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক দাবি

Authorসোহেল খান | স্পেশাল প্রতিবেদক

আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২২ এএম

<span class="nhu-kicker" style="--nhu-color:#ff0000;">বঙ্গভবনে রক্ত ঝরুক চেয়েছিলাম!</span><span class="nhu-sep">•</span> ইউনূস সরকারের অপসারণ চক্রান্ত ও চরম অসহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক দাবি
আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা ছিল শতভাগ: রাষ্ট্রপতি

ছাত্র-জনতার অভাবনীয় অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অনিবার্যভাবেই বঙ্গভবনে থেকে যান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা সময় তাকে চরম বৈরিতা, অসহযোগিতা ও অপসারণ চক্রান্তের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির অভিযোগ— তাকে অসাংবিধানিকভাবে সরাতে সাবেক এক প্রধান বিচারপতিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছে, মিশন থেকে নামানো হয়েছে তার ছবি। এমনকি তার প্রেস উইং শূন্য করে তাকে কার্যত ‘প্রতিবন্ধী’ করে রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই দুঃসময়ের কথা অকপটে তুলে ধরেন ৭৫ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপ্রধান।

উপড়ে ফেলার বহুমুখী চক্রান্ত ও সাবেক প্রধান বিচারপতিকে প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জানান, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করে একটি সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলেছিল। রাজনৈতিক পর্যায় থেকে তাকে সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেই তাকে উৎখাতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “সরকারের একজন উপদেষ্টা সাবেক এক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করে আমার জায়গায় বসার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ওই বিচারপতি সাংবিধানিক বিধিনিষেধের কথা বলে সাফ না করে দেন। তার ওই দৃঢ়তার কারণেই সরকারের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়।”

নিজ অবস্থানে অটল থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাকে কতভাবে উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে! কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি। আমি চেয়েছিলাম, আমার রক্ত ঝরে যাবে বঙ্গভবনে, ঝরুক! কিন্তু আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব।”

বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের সেই বিভীষিকাময় রাত ও ভাড়াটিয়া মব
গত ২২ অক্টোবরের বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিকে ‘ভাড়াটিয়াদের নাটক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, রাতারাতি গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যানার-মঞ্চের নামে একদল লোক বঙ্গভবনে লুটতরাজ চালানোর উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। কাঁটাতারে লাফিয়ে পড়া নারী থেকে শুরু করে সাউন্ড গ্রেনেডের পর ছবি তোলার জন্য ক্যামেরাম্যান ডাকা— সবকিছুই ছিল ব্ল্যাকমেইল করার পূর্বপরিকল্পিত ছক।

সেদিন রাত ১২টায় তখনকার তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ফোন করে রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকারীরা তাদের লোক নয়। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের তিন স্তরের নিরাপত্তা এবং এপিসি (APC) দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ড. ইউনূসের সংবিধান লঙ্ঘন ও চরম অসহযোগিতা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, তার উদ্যোগেই এই সরকার গঠিত হলেও পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টা তার সঙ্গে কোনো সমন্বয়ই করেননি।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার কথা থাকলেও, ড. ইউনূস ১৪-১৫ বার বিদেশ সফর করলেও একবারও বঙ্গভবনে যাননি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বশেষ স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কাতারের আমিরের আমন্ত্রণে একটি সামিটে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ আটকে দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে ‘ব্যস্ততা’ দেখিয়ে একটি চিঠিতে সই করতে বাধ্য করার চেষ্টাও করা হয়।

মিশন থেকে ছবি অপসারণ ও প্রেস উইং কেড়ে নেওয়া
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাসগুলো থেকে রাতারাতি রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন সরকারের এক উপদেষ্টা। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক রেওয়াজ ভেঙে দেওয়া এই ঘটনাকে রাষ্ট্রপতি তাকে অপসারণের ‘প্রথম ধাপ’ হিসেবেই দেখেছিলেন।

সবচেয়ে অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর। ওই সাক্ষাতের ছবি পত্রিকায় আসার পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ক্ষুব্ধ হয়। এর জেরে বঙ্গভবনের প্রেস সেক্রেটারি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারিসহ ৩০ বছর ধরে কাজ করা ফটোগ্রাফারদেরও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রেস উইং একদম নিল করে দিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল জিতলে একটা অভিনন্দন বার্তা দেব, সেই উপায়ও নেই। আমাকে একদম প্রতিবন্ধী করে দিল। ক্যাবিনেট, প্রিন্সিপাল বা সংস্থাপন সচিব— কাউকে ফোন করেও কোনো লাভ হয়নি।”

দুঃসময়ে পাশে ছিল বিএনপি ও সশস্ত্র বাহিনী
এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিএনপি এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে ‘শতভাগ সমর্থন’ পেয়েছেন বলে জানান মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, “বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান আমাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন— তারা কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতি অপসারণের পক্ষে নন। তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিক একজন মানুষ।”

পাশাপাশি তিন বাহিনীর প্রধানরাও তাকে সাহস জুগিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন— সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পতন মানে পুরো বাহিনীর পতন, যা তারা যেকোনো মূল্যে রোধ করবেন। এমনকি বিদেশি কূটনীতিকরাও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিপক্ষে ছিলেন বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই খোলামেলা সাক্ষাৎকার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!