ভারতের পার্লামেন্টে নারী কোটা বিল পরাজিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘মা ও মেয়েদের’ কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর ‘ঘৃণা ও সংর্কীণ রাজনীতির’ তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদি। এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
নারী বিল নিয়ে অবস্থানের কারণে কংগ্রেসের রাজনীতিবিদদের ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা করেছিলেন যে, কংগ্রেস প্রস্তাবিত সংশোধনীকে সমর্থন করে তার ভাষায় দীর্ঘদিনের ভুল শুধরে নেবে এবং ‘তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে’।
মোদি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার আশা ছিল, কংগ্রেস তার কয়েক দশক পুরোনো ভুল শুধরে নেবে, পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে। কিন্তু কংগ্রেস ইতিহাস রচনা করার ও নারীদের সমর্থনে দাঁড়ানোর সুযোগ হারিয়েছে। দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে কংগ্রেসের অস্তিত্বই হারিয়ে গেছে। পরজীবীর মতো কংগ্রেস আঞ্চলিক দলগুলোর পিঠে চড়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু কংগ্রেস এটাও চায় না যে, আঞ্চলিক দলগুলো আরও শক্তিশালী হোক। তাই, এই সংশোধনীটির বিরোধিতা করিয়ে কয়েকটি আঞ্চলিক দলের ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করেছে দলটি।
‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বেশ কয়েকটি বিরোধী দলকে পদ্ধতিগত আপত্তির আড়ালে বারবার নারীর অধিকার আটকে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস, এসপি, ডিএমকে, টিএমসি ও অন্যান্য দলগুলো এত বছর ধরে একই অজুহাত দিয়ে আসছে। কিছু কারিগরি বিষয় তুলে ধরে তারা নারীদের অধিকার লুট করেছে। জাতি রাজনীতির এই কদর্য ধরন এবং এর পেছনের কারণ বুঝতে পেরেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নারীরা অনেক কিছুই ভুলতে পারেন, কিন্তু অপমান ভোলেন না। সংসদে কংগ্রেস ও তার মিত্রদের আচরণ প্রত্যেক নারীর হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী বেদনা হয়ে থাকবে। সংসদের কার্যক্রম চলাকালীন সারাদেশের লাখ লাখ নারী নিবিড়ভাবে সংসদের দিকে নজর রাখছিলেন। দেশের নারীশক্তি সবকিছু দেখছিল। এটা দেখে আমার গভীর কষ্ট হয়েছে যে, প্রস্তাবটি পরাজিত হওয়ার পর কংগ্রেস, ডিএমকে, টিএমসি ও এসপির মতো বংশীয় দলগুলো আনন্দে হাততালি দিচ্ছিল।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, স্থবির অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আলোচ্য বিষয়টি দেশের নারীদের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মোদি বলেন, ‘আজ আমি এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি, বিশেষ করে এই দেশের নারীদের জন্য। এই দেশের প্রতিটি নাগরিক দেখছেন কীভাবে নারীদের অগ্রগতি থমকে গেছে। আই অ্যাম সরি।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






