ঢাকা   মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ভালুকায় কৃষিজমিতে কারখানার বর্জ্য ফেলায় লাইন সিলগালা

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

ভালুকায় কৃষিজমিতে কারখানার বর্জ্য ফেলায় লাইন সিলগালা

ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিজমিতে তরল বর্জ্য ফেলার অভিযোগে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ নামে একটি কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন সিলগালা করেছে ময়মনসিংহ পরিবেশ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১২টায় উপজেলার ভরাডোবা এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভালুকা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিদর্শক মো. রুকন মিয়া এবং কৃষকদের প্রতিনিধি প্রকৌশলী রুহুল আমিন। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে কারখানাটি আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে দূষিত বর্জ্য পানি ফেলছিল। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষিজমির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কারখানাটি পাশের জমিতে বর্জ্য পানি ফেলছিল। এতে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকাবাসী ও কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শন দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কারখানার বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কৃষক প্রতিনিধি প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল ও হ্যারি ফ্যাশন লি-এর অবৈধ বর্জ্যে ভরাডোবার ৩৩৫ দশমিক ৭৪ একর ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকেরা প্রায় ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন, যা সরকারি তদন্তে প্রমাণিত। তিনি দ্রুত সুপারিশকৃত ক্ষতিপূরণ কৃষকদের মধ্যে বণ্টন এবং স্থায়ী সমাধান হিসেবে ক্ষতিকর ডায়িং ইউনিট বন্ধ বা স্থানান্তরের দাবি জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাড়পত্রের শর্ত অনুযায়ী কারখানার পরিশোধিত তরল বর্জ্য ও ডমেস্টিক বর্জ্য স্টিল পাইপলাইনের মাধ্যমে অপসারণ করার কথা। কিন্তু কারখানাটি আংশিক স্টিল পাইপ ব্যবহার করলেও বাকি অংশে এখনো প্লাস্টিক পাইপ রেখেছে। রাতে প্লাস্টিক পাইপে ছিদ্র করে বর্জ্য পানি আশপাশের এলাকায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, এতে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একই লাইনে পরিশোধিত বর্জ্য ও ডমেস্টিক পানি নিরাপদভাবে অপসারণের জন্য স্টিলের মোটা পাইপ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। শর্ত না মানায় কৃষিজমি রক্ষায় বর্জ্য নিষ্কাশনের লাইন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনকে সুপারিশ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের স্থানটি সিলগালা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কারখানার ‘অ্যাডমিন ম্যানেজার’ ইকরাম উল্লাহ বলেন, ওই ড্রেন দিয়ে গোসলখানার আনুষঙ্গিক পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকদিন আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে লাইনটি দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!