সাংবাদিকতাকে পুঁজি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমান হাবিব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে সাংবাদিকতাকে নিজের পরিবারের রক্ষা কবচে পরিণত করেছেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানাগেছে। নিরুপায় হয়ে প্রতিকার চেয়ে ভূক্তভোগীরা পত্রিকার সম্পাদক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানাগেছে।
তিনি সাবরাং ইউনিয়নের আলির ডেইল এলাকার নজির আহমদের ছেলে ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার টেকনাফ সংবাদাতা।
অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতাকে জনকল্যান মূল কাজে প্রয়োগ না করে পারিবারিক কোন্দল ও চাঁদাবাজির হাতিয়ারে পরিণত করেছেন তিনি। তার অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে এলাকাবাসী পত্রিকাটির সম্পাদক বরাবর অভিযোগ করেছেন বলে জানাগেছে।
আবেদনে তার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ গুলো হলো- মাদক সংশ্লিষ্টতা ও চাঁদাবাজি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদারদের সাথে যোগসাজশ, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তার নিকটাত্মীয় ও পরিবারের সদস্যরা সমুদ্রপথে ইয়াবা চোরাচালানের সাথে সরাসরি জড়িত বলে জনশ্রুতি রয়েছে। নিজস্ব নৌকা ব্যবহার করে ইয়াবার চালান খালাস এবং তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজে তারা সক্রিয় বলে দাবী করা হয়েছে।
এছাড়াও তার সাথে বা তার পরিবারের সাথে ব্যক্তিগত বিরোধ তৈরি হলে, সংবাদপত্রকে অপব্যবহার করে নিরপরাধ মানুষকে ‘মাদক ডন’ বা ‘মানবপাচারকারী’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে তাদের সামাজিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার বিষয়ে উদ্বেজ জানানো হয়েছে।
উল্লেখিত বিষয় গুলো সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান আবেদন কারীরা।
আলীর ডেইলের সাহেদ কামাল জানান, হাবিব মূলত সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তার আড়ালে আত্মীয় স্বজনের অপকর্মের পাহারাদার। সে নিজেই অবৈধ ভাবে সরকারী খাল থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রির সাথে জড়িত। তাছাড়া মানুষকে অহেতুক বিভিন্ন তকমা দিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়।
সাবরাং কোয়াইনছড়ি পাড়ার বাসিন্দা এজাহার মাঝি জানান, আমি একজন জেলে। পাশাপাশি দোকান ও খামার ব্যবসা করি। ক’দিন আগে হঠাৎ আমি মানব পাচার করি এবং তালিকায় আমার নাম রয়েছে জানায় হাবিব। সংবাদে আমার নাম আসতেছে, নাম কাটানোর জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবী করেন। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করি। তাদের সাথে আমাদের স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ থাকায় আমি এবং আমার ভাই খুইল্যা মিয়াকে মানবপাচারকারী সাজিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন।
আলীর ডেইলের আব্দুল করিম জানান, হাবিবের ৭ জন চাচার মধ্যে এক চাচা মেম্বার। এলাকাটিকে তারা জিম্মি করে রেখেছে। মাদক, ভূমি দখল, বালু উত্তোলন থেকে শুরু করে এমন কোন অপরাধ নেই যেটাতে তারা জড়িত নেই। এলাকার লোকজনের সাথে তাদের ঝামেলা বাঁধলেই যে কাউকে মাদককারবারী ও আদম পাচারকারী তকমা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে হাবিব।
তিনি আরো জানান, তার বিরুদ্ধে হাসিনা খাতুন নামের এক নারী বাদী হয়ে সম্প্রতি একটি মামলালা দায়ের করেন।
এছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ভূক্তভোগীরা জানান, সংবাদ পত্র যেখানে নির্যাতিতের কথা বলে সেখানে সাংবাদিক নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু প্রাতিষ্টানিক শিক্ষাকে প্রাধান্য না দিয়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইমেজ সম্পর্কে খোজ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে আরো দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। চিহ্নিত ব্যক্তিরা যখন সাংবাদিকতার মতো পেশায় আসার সুযোগ পায় তখন সমাজ উন্নয়নের চেয়ে বিশৃংখলা বেশী সৃষ্টি হয়। আমরা এলাকাবাসী এসবের একটা সঠিক সমাধান আশাকরি।
স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে হাবিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন। কিছুক্ষন পরে ফোন করে প্রতিবেদককে বলেন, একটি ভূইফোঁড় পত্রিকার প্রতিনিধি হয়ে ইনকিলাব এর মতো একটি পত্রিকার সাংবাদিককে ফোন করার দুঃসাহস দেখে আমিতো অবাক হয়ে যাচ্ছি।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






