ঢাকা   শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মার্কিন বাহিনীকে ‘হার্ট অ্যাটাক’ দেওয়ার মতো ‘হুত’ নামক গোপন অস্ত্রের হুঙ্কার দিচ্ছে ইরান

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১২:২০ এএম

মার্কিন বাহিনীকে ‘হার্ট অ্যাটাক’ দেওয়ার মতো ‘হুত’ নামক গোপন অস্ত্রের হুঙ্কার দিচ্ছে ইরান

কল্পনা করুন পানির নিচে চলাচলের সক্ষম এমন এক সুপার-উইপন বা শক্তিশালী মারণাস্ত্রের কথা, যা অনেকটা বুলেটের মতো গতিতে ছুটে গিয়ে শত্রুুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিনকে মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে। এই অস্ত্রটির নাম ‘হুত’। ধারণা করা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার ইরান যে গোপন অস্ত্রের মাধ্যমে তাদের শত্রুদের “চরম আতঙ্কিত” হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল, তা আসলে এই হুত টর্পেডো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এমন সতর্কবার্তা এল। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিনিময়ে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার যে দাবি ইরান জানিয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এরপর থেকেই ইরানের এই রহস্যময় অস্ত্র নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরাম ইরানি সরাসরি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যুদ্ধের কারণে ইরানি নৌবাহিনী বেশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কমান্ডার ইরানি জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান “খুব শীঘ্রই” শত্রুদের ওপর একটি “নতুন অস্ত্র” দিয়ে আঘাত হানবে। তিনি রহস্য বজায় রেখে বলেন, “অস্ত্রটি এখন তাদের (শত্রুদের) ঠিক পাশেই অবস্থান করছে। আমি আশা করি তারা হার্ট অ্যাটাক করবে না।”

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান ইন্ডিয়া টুডেকে জানান, কমান্ডার ইরানি সম্ভবত এই ‘হুত’ রকেট টর্পেডোর দিকেই ইঙ্গিত করছেন। এটি ২০০৬ সালের দিকে অনেকটা গোপনে প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল। এই টর্পেডো এতো দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয় যে, শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া দেখানোর মতো খুব একটা সময় পায় না। তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

হুত সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জনসমক্ষে নেই, কারণ ইরান এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো কঠোর গোপনীয়তায় রেখেছে।

‘হুত’ টর্পেডো আসলে কী?

ফার্সি ভাষায় ‘হুত’ শব্দের অর্থ হলো ‘তিমি’। ইরান দাবি করেছে যে এটি বিশ্বের দ্রুততম ডুবো-অস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। রাশিয়ার পর ইরানই বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ যাদের হাতে এই ‘সুপার-ক্যাভিটেটিং’ টর্পেডো রয়েছে। রাশিয়ার নিজস্ব সংস্করণ ‘VA-111 Shkval’ নব্বইয়ের দশকেই নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

সাধারণ টর্পেডো, যা মূলত পানির নিচের গাইডেড মিসাইল হিসেবে পরিচিত, সেগুলোর গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। কিন্তু ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের ‘হুত’ টর্পেডো পানির নিচে ঘণ্টায় ৩৬০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ছুটতে পারে।

যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি একটি বিশাল সাফল্য। কারণ পানি বাতাসের তুলনায় প্রায় ১,০০০ গুণ বেশি ঘন হওয়ায় সেখানে প্রচণ্ড বাধার সৃষ্টি হয়, যা যেকোনো বস্তুর গতি কমিয়ে দেয়।

যেভাবে কাজ করে হুত

সত্তরের দশকে সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা টর্পেডোতে এক ধরনের কঠিন জ্বালানির রকেট মোটর উদ্ভাবন করেন। এটি টর্পেডোর চারপাশে একটি গ্যাসের বুদবুদ বা বায়বীয় আবরণ তৈরি করে। এর ফলে পানির সাথে টর্পেডোর সরাসরি ঘর্ষণ কমে যায় এবং এটি প্রচণ্ড গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। একেই বলা হয় ‘সুপার-ক্যাভিটেশন’ প্রযুক্তি। সোজা কথায়, এটি সাগরের পানিকে অনেকটা হাই-স্পিড রানওয়েতে পরিণত করে।

হুতের বিশেষত্ব হলো, এটি ২০০ কেজিরও বেশি উচ্চ-বিস্ফোরক রণকৌশল (ওয়ারহেড) বহন করতে সক্ষম।
এই গতির একটি বড় মাসুল দিতে হয় এর পাল্লা বা রেঞ্জের ক্ষেত্রে। প্রচণ্ড গতির কারণে এটি খুব দ্রুত জ্বালানি খরচ করে ফেলে। ফলে হুত বা রাশিয়ার শ্কভাল-এর পাল্লা মাত্র ১৫ কিলোমিটার। যেখানে সাধারণ টর্পেডোর পাল্লা এর দ্বিগুণ (প্রায় ৩০ কিলোমিটার) হয়ে থাকে।

হুত কি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ডুবিয়ে দিতে পারবে?

বিশেষজ্ঞ উন্নিথানের মতে, হুতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এটি এখনো পরীক্ষিত নয়। তিনি বলেন, “এই সুপার টর্পেডোগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। এর প্রচণ্ড গতি, শব্দ এবং গ্যাসের বুদবুদ জাহাজের সোনার (SONAR) ব্যবস্থায় গোলযোগ সৃষ্টি করে, যা লক্ষ্যভেদে বাধা দেয়।”

বর্তমানে ইরানের কাছাকাছি মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর মতো মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারগুলোতে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী আর্মার বেল্ট বা সুরক্ষা বর্ম, ডাবল ও ট্রিপল হুল (খোলস) এবং বিশাল ওজন বহনের সক্ষমতা। এই রণতরীগুলো একাধিক ভারী টর্পেডোর আঘাত সহ্য করার মতো করেই তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়া, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার কখনোই একা থাকে না। এর চারপাশে ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার, সাবমেরিন এবং জেটের সমন্বয়ে একটি দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয় থাকে, যাকে বলা হয় ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’।

ইরানকে যদি এই হুত টর্পেডো নিক্ষেপ করতে হয় (সাবমেরিন বা স্পিডবোট থেকে), তবে তাদের এই শক্তিশালী মার্কিন নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে অন্তত ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছাতে হবে। উন্নিথানের মতে, শনাক্ত না হয়ে এতোটা কাছে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব। তবে ‘কার্যত’ শব্দটিই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে চমক দেখানোর জন্য পরিচিত। তার মতে, “উন্মুক্ত সমুদ্রে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের বিরুদ্ধে এতোটা কাছে যাওয়া হবে অনেকটা আত্মঘাতী পদক্ষেপের মতো।”

তবে একমাত্র হরমুজ প্রণালীর মতো সংকীর্ণ জলসীমায় ইরান হয়তো এই সুপার টর্পেডো ব্যবহার করার সুযোগ পেতে পারে। এই আশঙ্কায় মার্কিন রণতরীগুলো বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছে।

সবশেষে বলা যায়, যদি হুত টর্পেডো অলৌকিকভাবে কোনো মার্কিন ক্যারিয়ারে আঘাত হানতে পারে, তবে তা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম। তবে উন্নিথানের ভাষায়, “সেটি হবে দশ লাখে একটি সফল শট।”

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!