স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা এ মহান সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। তাই এ অধিবেশন ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হয়েছে। অধিবেশন সমাপ্তি-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ঘোষণা পাঠ করার মাধ্যমে স্পিকার চলতি অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’
তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয় ১২ মার্চ থেকে। এবারের অধিবেশনে মোট বৈঠক দিবস ছিল ২৫টি। অধ্যাদেশ ছিল ১৩৩টি, অধ্যায়গুলোর বিপরীতে বিল পাশ হয়েছে ৯১টি। অদ্যকার ২টি বিলসহ মোট ৯৪টি বিল পাশ হয়েছে। আইন প্রণয়ন কার্যাবলি ছাড়াও এ অধিবেশনে ৫টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ২টি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। কার্যপ্রণালি-বিধির ৬২ বিধিতে ১৬টি নোটিশ পাওয়া যায়। এরমধ্যে ২টির ওপর আলোচনা হয়েছে। ৬৮ বিধিতে ৯টি নোটিশ পাওয়া যায়। এরমধ্যে ১টি নোটিশের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। ৭১ বিধিতে গৃহীত ৩৮টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে এবং ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে ২০৭ বার। ১৬৪ বিধিতে ১৪টি নোটিশের মধ্যে ১টি গৃহীত হয়েছে এবং তা বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে প্রেরিত হয়েছে। ২৬৬ বিধিতে ৩টি নোটিশ পাওয়া যায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২টি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরদানের জন্য মোট ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ প্রদান করেছেন। তন্মধ্যে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য মোট ২৫০৯ টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। নোটিশগুলোর মধ্যে মন্ত্রীরা মোট ১৭৭৮টি প্রশ্নের উত্তর এ সংসদে প্রদান করেছেন।’
স্পিকার বলেন, ‘আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াসহ সংসদীয় অন্যান্য কার্যক্রমে আপনাদের সহনশীল আচরণ ও গঠনমূলক আলোচনা আমাকে অভিভূত করেছে।’
এসময় স্পিকার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরা, চিফ হুইপ ও হুইপরা এবং সব সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং ডেপুটি স্পিকার ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া দেশ ও জাতির অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে এবং সবার প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদন ও আন্তরিক শুভ কামনা জানিয়ে প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি সংক্রান্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করেন তিনি।






