ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সংযোগস্থল সলিমগঞ্জ বাজার সংলগ্ন জয়নগর- আকানগর সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত জন গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে,নিয়মিত বালুবাহী বাল্কহেডের ঘর্ষণ ও ধাক্কায় ভেঙে গেছে ব্রিজের পিলারের বিভিন্ন অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রীজটি দিয়ে যানবাহন ও দুই উপজেলার স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন প্রতিদিন। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে যেকোনো সময় ব্রীজটি ধসে পরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়ে তেমন কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। কারণ, বাল্কহেড মালিক ও বালু বিক্রেতারা প্রভাবশালী। তারা বলছেন, সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশেরকে ম্যানেজ করে বালুবাহী বাল্কহেড ব্রিজের নিচ দিয়ে চলাচল করছে, নৌ-পুলিশের নাকের ডগায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হওয়া ও আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায়, পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা এলাকার জনমনে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধে উঠেছে।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার সলিমগঞ্জ বাজার-জয়নগর-আকানগর সীমান্তবর্তী এলাকার তিতাস নদীর ওপর ২০১১-১২ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমে শত শত বালুবাহী বাল্কহেড উক্ত ব্রীজের নিচ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে ব্রীজের মাঝের ১২টি পিলারের বিভিন্ন অংশ বালুবাহী বাল্কহেডের ঘষা-ধাক্কায় ঢালাই ভেঙে গিয়ে রড বাহির হয়ে গেছে। চারটি পিলারের প্রায় ৮থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রীজটি দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচলের সময় কেঁপে উঠে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি দিয়ে সলিমগঞ্জ ও তার আশপাশের গ্রামের লোকজনই নয়। পার্শ্ববর্তী বাঞ্চারামপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ১০ থেকে১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন নিত্য দিনের কেনাকাটাসহ নানা প্রয়োজনে সলিমগঞ্জ বাজারে যাতায়াত করে থাকে। সেই সঙ্গে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এ ব্রীজের উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত থাকে। অপরদিকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে এই ব্রীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক সলিমগঞ্জ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন,নৌ-পুলিশের নাকের ডগায় অবৈধ বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় সরকারি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্রীজ নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ ৬ মাস অথবা এক বছর পরে আমাদের এখান থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাবে। ব্রীজটি ভেঙ্গে গেলে ভোগান্তির শিকার হবে দুই উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক সাধারণ জনগণ। পুলিশের চোখের সামনে রাষ্ট্রীয় সম্পদ প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। তবে পুলিশের ভূমিকা নিরব। পুলিশ বাল্কহেড মালিক ও বালু বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না, করে,উল্টা প্রতি মাসে মোটাঅংকে চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ তাদের, ইতিমধ্যে ব্রীজের ১২টি পিলারের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। ব্রিজের নিচে স্বল্পস্থান দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই আটকে যায় বালুবাহী বাল্কহেড। ব্রীজে নিয়মিত বাল্কহেডের ঘষা ও ধাক্কা লাগে। যেকোনো মুহূর্তে ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে দুই উপজেলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর আমদের বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থাও নেই। ব্রীজটি সংস্কারের দ্রুত দাবি জানাচ্ছি। আর বাল্কহেড চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ব্রিজটি নবীনগর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের সলিমগঞ্জ ও বড়িকান্দি,শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন’সহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষজন বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার বিশনন্দী-কড়ইকান্দি ফেরিঘাট হয়ে রাজধানী ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী,শহরে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালবাহী পরিবহন, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী যাতায়াত ও জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও ব্রিজটির গুরুত্ব ভূমিকা রেখে আসছে। ইতিমধ্যে ব্রীজের মাঝের পিলারসহ আশপাশের প্রতিটি পিলারে বাল্কহেডের ঘষা লেগে পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেড়ে গেছে।। ব্রীজটি ভেঙে পড়ার আগেই ভেঙে যাওয়া পিলার ও ফাটল মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সলিমগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি এসএম বাদল মাহমুদ বার্তা বাজারকে বলেন,সলিমগঞ্জ বাজার একটি বৃহত্তম বাণিজ্যিক এলাকা। প্রায় এক হাজারের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্রীজটি এই এলাকার ব্যবসা সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকা রাখছেন। এছাড়াও বাঞ্ছারামপুর ও আড়াইহাজার বিশনন্দী-কড়ইকান্দি ফেরীঘাট হয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। অনতিবিলম্বে ব্রীজটি সংস্কার দাবি জানাচ্ছি, না করলে এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান থমকে যাবে,ক্ষতির মুখে পরবে ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) ইন্সপেক্টর হায়দার, চাঁদা আদায়ের অভিযোগটি অস্বীকার করে তিনি বার্তা বাজারকে বলেন আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, ব্রীজের পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা যেন না লাগে আমাদের নৌ-পুলিশের একটি টিম প্রতিনিয়ত কাজ করে চলছে। বিষয়টি আপনি (ইউএনও) স্যার জানান,
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ফেরদৌস আলী বার্তা বাজারকে বলেন, আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখব এবং তারপর মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বার্তা বাজারকে বলেন, বিষয়টি নৌ-পুলিশ সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেঙ্গে যাওয়া পিলার গুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলবো।






