ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি, ২৪ ঘণ্টায় দুই রোহিঙ্গা নেতা খুন

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি, ২৪ ঘণ্টায় দুই রোহিঙ্গা নেতা খুন

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২৪ ঘণ্টায় ২ জন রোহিঙ্গা নেতা খুন হয়েছে-যা আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতির নির্দেশক।

বুধবার (৬ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ইস্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) বা নবী হোসেন গ্রুপের প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামাল বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, গতকাল ৫-মে, একইভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছেন কথিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘হালিম গ্রুপ’-এর প্রধান কেফায়েত উল্লাহ হালিম। তিনি ক্যাম্প-০৭ এর ব্লক-এফ/২ এলাকার বাসিন্দা। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন এআরও গ্রুপ নেতা ও হালিম গ্রুপের শীর্ষ নেতা বলেও জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের ভেতরে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে প্রতিপক্ষের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হালিমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন কেফায়েত উল্লাহ হালিম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান বলে জানা গেছে। উক্ত ঘটনায় আরো দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তারা হলেন— তোফায়েল আহম্মেদ এর পুত্র মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও নুর মোহাম্মদ (৩২)।

এদিকে, ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ২ জন শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতার হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্প এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। উল্লেখ্য যে, উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান গোলাগুলির ঘটনায় ২৪ ঘন্টায় ২ জন খুন হবার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন গ্রুপের ব্যবসা বাণিজ্যের ভাগ ভাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে এসব বিরোধ, পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘটনার পর ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিবেশ ও গণমাধ্যমকর্মী আবদুল্লাহ আল জোবায়ের এর মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতির বহি:প্রকাশ। ক্যাম্পে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তারা যোগ করে বলেন, গতকাল ৫-মে হালিম গ্রুপের হালিম নিহত হবার পর আজকে নবী হোসেন গ্রুপের নবীর ভাই কামাল নিহত হয়েছেন। স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে ক্যাম্পের মধ্যে বিবদমান পক্ষগুলো মারাত্মকভাবে হানাহানিতে লিপ্ত রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন সমাজের প্রতিনিধি, উখিয়া ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক হাশেম কন্ট্রাক্টর বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিবদমান প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ডসহ গোলাগুলির ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তিনি মনে করেন, এখনো বিভিন্ন ঘটনাগুলো তাদের নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমন সময় হয়ত আসতে বাকি নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিবদমান গ্রুপগুলো একত্রিত হয়ে স্থানীয়দের সাথে দ্বন্ধে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে। তাই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে সম্মানের সাথে প্রত্যাবর্তন করা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিরতা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!