ঝিনাইদহে হামলার শিকার হওয়ার পর থানার পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দেশের থানাগুলোকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতার নিদর্শন’ এবং ‘নির্যাতিত মানুষের জন্য অভিশাপের জায়গা’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সরকারের ‘গলা চিপে ধরার’ আহ্বান জানান এই নেতা।
শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহে হামলার ঘটনার পর সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এটা কোনো থানা নয়। আমাদের মধ্যযুগীয় বর্বরতার যদি কোনো নিদর্শন থাকে, সেটা হলো বাংলাদেশের বর্তমান থানাগুলো।
এটা নির্যাতিত মানুষের জন্য আরও অভিশাপের জায়গা। কোনো মানুষ যদি থানাতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে মামলা করতে চায়, তবে আজকে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক যাত্রা নয়।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, দুপুর থেকে তারা ‘জংলি শাসনের’ মধ্য দিয়ে গেছেন। থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার পাশাপাশি একপর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, অবশেষে সরকারকে যখন গলা চিপে ধরেছি, তখন সরকার মামলা নিতে বাধ্য হয়েছে। উপর থেকে যখন কল এসেছে, তখনই কেবল মামলা নেওয়া হয়েছে।
থানায় মামলা নেওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আটজনের নামে মামলা দিয়েছি। সেখানে একটি ছিনতাইয়ের মামলাও রয়েছে, কারণ আমাদের ক্যামেরা ও মোবাইল—সবকিছু তারা চুরি করে নিয়ে গেছে।
আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে এনসিপি নেতা বলেন, আইনমন্ত্রী তার বাড়ি থেকে আইনের শাসন বাস্তবায়ন শুরু করবেন বলে আমরা আশা রাখি।
কিন্তু থানার যে পরিস্থিতি, তা উনার ভিজিট করা প্রয়োজন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের জনগণের উদ্দেশে বলেন, আমরা পুরো ১৮ কোটি মানুষকে বলব, আপনারা সরকারের গলা চিপে ধরুন যাতে সরকার আইনের শাসন বাস্তবায়ন করে। আমরা এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ পাব যে, সরকার কি দেশে আইনের শাসন চায় নাকি জংলি শাসন চায়? বাংলাদেশে কোনো জংলি শাসন চলবে না।
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করব উত্তম এবং ন্যায়বিচার পাব। সরকার বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।






