নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগসহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেলের নেতৃত্বে একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল।
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে অবস্থানকালে খবর পান, কালাদরাপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে একটি মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরে কর্মসূচি শেষে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে তারা কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় মিছিলের বিষয় নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার করা হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়।
এ ঘটনায় শ্রমিক দল নেতা হৃদয়সহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতা-কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয় জানতে চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য যুক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলা, মোটরসাইকেল ও একটি অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা কাজ করছেন।






