নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ, পানি ও স্যানিটেশন সংকট নিয়ে বার্তা বাজারে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে লিখিত বক্তব্য ও স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তিনটি নথিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্যাডে হাতে লেখা বক্তব্যে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণি ও রোল নম্বর উল্লেখ করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। নথিগুলোতে কয়েক ডজন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর রয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক লাইন বিকল থাকায় ফ্যান ও বাল্ব অচল, টিউবওয়েল নষ্ট থাকায় শিক্ষার্থীদের বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ এবং স্যানিটেশন সংকটের বিষয় তুলে ধরা হয়। সংবাদ প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত সমর্থন সংগ্রহের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি সংবাদে প্রকাশিত অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে খণ্ডন না করে কেন শিক্ষার্থীদের দিয়ে লিখিত সমর্থন নেওয়া হলো? বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে স্বাক্ষর সংগ্রহের ঘটনাকে অনেকেই অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন।
প্রাপ্ত নথিগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই ধরনের বক্তব্য ব্যবহার করে একাধিক শিক্ষার্থীর নাম ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে অভিযোগের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা, বিদ্যুৎ সংযোগ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের দিয়ে লিখিত বক্তব্য নেওয়ার ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা উচিত।
সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের দিয়ে লিখিত সমর্থন নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক মোছা. মারুফা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার। অভিযোগের জবাবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে লিখিত সমর্থন সংগ্রহ নয়, বরং বাস্তব সমস্যাগুলো দূর করাই প্রত্যাশিত।






