বগুড়ার আদমদিঘীর একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল দখল এবং ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১১টায় বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মৃত বুলবুল ফারুকের বোন রেনুকা ও জাহানারা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, ২০১৬ সালে তাদের ভাই মৃত বুলবুল ফারুক আদমদিঘী সদরে ‘বিদ্যাবীথি মডেল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে কিন্ডারগার্টেন নীতিমালা অনুযায়ী পাঠদানের সরকারি অনুমতির সুবিধার্থে আদমদিঘী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারকে সভাপতি করে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী স্কুলের নামে দুটি ব্যাংক হিসাবও খোলা হয়। তবে পরিচালনা কমিটি থাকলেও স্কুলটি মূলত বুলবুল ফারুকের একক মালিকানা ও অর্থায়নেই পরিচালিত হয়ে আসছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বুলবুল ফারুক মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নিঃসন্তান হওয়ায় ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তার মা এবং ভাই-বোনেরা এই সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ।
কিন্তু তার মৃত্যুর পর স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মহিত তালুকদার এবং তার ছোট ভাই উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মোত্তাকিন তালুকদার (মুক্তা) ব্যাংকে গচ্ছিত স্কুলের সব অর্থ উত্তোলন করে নেন এবং বর্তমানে স্কুলের যাবতীয় আয়-ব্যয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তাদের পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করে বলেন, এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে আব্দুল মহিত তালুকদার মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে কালবেলাকে বলেন, ‘ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বুলবুল আমার দলের সেক্রেটারি ছিলেন। সেই সময় আমাকে স্কুলের সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছিল। পরে তার মৃত্যুর পর আমি পদত্যাগ করে চলে আসি। ওই স্কুলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আদমদীঘিতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই স্কুলের হিসাব রক্ষক। তাতে তিনি বলেছেন ওই স্কুলের ফান্ডে ১৪ লাখের বেশি টাকা রয়েছে। তাহলে আমি টাকা উত্তোলন করলাম কীভাবে। তারপরও আমি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আছি। এলাকায় গিয়ে বিষয়টি দেখভাল করব।’






