বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল ও জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সেই অবস্থান ব্যবহার করাকেই একমাত্র পথ মনে করছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের অনিশ্চিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরমাণু অস্ত্রের অবস্থান জোরালোভাবে প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ (কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বা কোরীয় কেন্দ্রীয় সংবাদ মাধ্যম) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ রূপরেখা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল ওয়ার্কার্স পার্টির (শ্রমিক দল) কেন্দ্রীয় কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কিম জং উন এই মন্তব্য করেন। বৈঠকটিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বর্তমান বিশ্বের জটিল ও পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে কিম জং উন বলেন, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানুষকে বহিরাগত কোনো বড় শক্তির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হলে পরমাণু শক্তি প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি।
কিম জং উনের এই নতুন ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতিতে এবং বিশেষ করে দূরপ্রাচ্য বা এশীয় অঞ্চলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে উত্তর কোরিয়া নিজেদের সুরক্ষায় পরমাণু অস্ত্রকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়েছে।
শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এই বিশেষ সিদ্ধান্ত আগামী দিনে উত্তর কোরিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান কেমন হবে, তার একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ধারণা দেয়।






