ঢাকা   মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

এবার যে নতুন খবর পে স্কেল বাস্তবায়ন বিষয়ে

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

এবার যে নতুন খবর পে স্কেল বাস্তবায়ন বিষয়ে

এবার যে নতুন খবর পে স্কেল বাস্তবায়ন বিষয়ে

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের বৃত্ত ভেঙে ধীরে হলেও কিছুটা স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। এমন মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

তবে ভর্তুকি সংস্কার, ব্যাংক খাতের সুশাসন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন ও রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার—এই চার বিষয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। আইএমএফের মতে, সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি সূচকে উন্নতি দেখা গেলেও কাঠামোগত সংস্কারের গতি এখনো সন্তোষজনক নয়। সংস্থাটি রাজস্ব আয় সন্তোষজনক না হওয়ায় এখনই পে স্কেল বাস্তবায়ন না করে কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ঢাকা সফর করছেন আইএমএফ প্রতিনিধিদলের ১২ সদস্য।

তাঁরা গতকাল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সংস্থাটি তাদের অভিমত জানিয়েছে বলে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

সচিবালয়ে আইএমএফের বাংলাদেশ ও হংকং বিষয়ক মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রাতারাতি কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়।

দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান ধাপে ধাপে করতে হয়। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে আইএমএফও একমত।’

তিনি বলেন, নতুন কর্মসূচির ভিত্তি, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের ক্রমধারা (সিকোয়েন্সিং) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক সরকারের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক দায়িত্বের বিষয়টিও আইএমএফ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাত, পুঁজিবাজার এবং রাজস্ব প্রশাসনে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে আইএমএফ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত এক বছরে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করেছে। সেই বিবেচনায় সম্ভাব্য ৫০০ কোটি ডলারের নতুন আইএমএফ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের অর্থনীতি কেবল এই অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক মূল্যায়ন ও আস্থা ধরে রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুলের ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইএমএফের অর্থের চেয়ে তাদের মূল্যায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইএমএফের ইতিবাচক অবস্থান বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, এআইআইবি এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে শক্তিশালী আস্থার বার্তা দেয়।’

তাঁর মতে, বর্তমানে রপ্তানি আয়, প্রবাস আয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় শক্তিশালী। তবে ব্যাংক খাত, রাজস্ব প্রশাসন ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হলে আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

ভর্তুকি নিয়ে অসন্তোষ : আইএমএফের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা। সংস্থাটির মতে, কিছু খাতে ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার কথা থাকলেও নতুন বাজেটে কয়েকটি ক্ষেত্রে বরাদ্দ বেড়েছে। এতে সরকারি ব্যয়ের চাপ বাড়বে এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।

সংস্থাটি মনে করে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়েও ভর্তুকি সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। এ কারণে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি ব্যয় কমানোর সুপারিশ করেছে আইএমএফ।

অবশ্য অর্থমন্ত্রী জানান, ভর্তুকি বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বা বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। নতুন কর্মসূচির নীতিগত ভিত্তি নিয়েই আপাতত আলোচনা চলছে। পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।

ব্যাংক খাত নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ : ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপগুলো এখনো প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।

ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি, দুর্বল সুশাসন এবং আর্থিক ঝুঁকি অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

পে স্কেল বাস্তবায়নে সতর্কতা : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা চললেও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশার তুলনায় কম এবং বাজেট ঘাটতির চাপ রয়েছে। এই অবস্থায় বড় আকারের বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

আইএমএফের মতে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহিত হবে, যা ভোগব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআর সংস্কারে ধীরগতি : রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কারও আইএমএফের উদ্বেগের অন্যতম ক্ষেত্র। এর ধীরগতির কারণে আইএমএফ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো না গেলে সরকারের আয় বৃদ্ধি কঠিন হবে।

সংসদের ভূমিকা জোরদারের পরামর্শ : আইএমএফ মনে করে, আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রমে জাতীয় সংসদের ভূমিকা আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব প্রশাসন এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

ইতিবাচক দিকও দেখছে আইএমএফ : উদ্বেগের পাশাপাশি অর্থনীতির কয়েকটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মূল্যায়নে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমেছে। মূল্যস্ফীতিও ধীরে ধীরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে।

একই সঙ্গে রপ্তানি আয় ও প্রবাস আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। এসব কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটময় অবস্থা থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে বলে তাদের মূল্যায়ন।

সূত্রগুলো বলছে, চলমান আলোচনা শেষে আইএমএফ বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন দেবে। সেই মূল্যায়ন ভবিষ্যৎ ঋণ কর্মসূচি, উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রবাহের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন