হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজ দুটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ২৩ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ইরান।
মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কেশম দ্বীপের উত্তরে একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সঙ্গে অপর একটি জাহাজের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে বাল্ক ক্যারিয়ারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে।
এ পরিস্থিতিতে জাহাজের ক্যাপ্টেন জরুরিভিত্তিতে নাবিকদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেন। পরে উদ্ধার হওয়া সব নাবিককে নিরাপদে কেশম দ্বীপে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবকের’ ভূমিকায় থাকবে। একই সঙ্গে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে ২০ শতাংশ হারে টোল আদায় করা হবে।
গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেব।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা আছে, খোলা থাকবে। ইরান থাকুক আর না থাকুক, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির অভিভাবকের ভূমিকায় থাকবে।’
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ থেকে ইরান কোনোভাবেই পিছু হটবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রণালিটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তেহরান এটি রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে।’
মোখবের আরো লিখেছেন, ‘আমরা এটি রক্ষা করি, যাতে ভবিষ্যতে আমাদের জাহাজ চলাচলের জন্য শত্রুপক্ষকে কর দিতে না হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে পিছু হটার চিন্তা ইরানের কোনো মিত্রও নৈতিকভাবে সমর্থন করবে না।’
বার্তা বাজার/এস এইচ






