টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক নেতা-কর্মীর বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও শেয়ারকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক ইস্যু যুক্ত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট ও পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে আন্দোলনের গতিপথ প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আন্দোলনস্থলে উপস্থিত এক তরুণীকে একটি ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে আবার ফিরে আনতে চাই। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও চাই।’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
একইসঙ্গে শিক্ষার্থী ছাড়া বহিরাগতরা সেখানে ঢুকে আন্দোলনের মোড় ঘুরানোর চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ছাত্রদলেরর নেতাকর্মীরা এমন কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত মো. ওমর ফারুক প্রিন্স তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের নামে একটি কথিত ফটোকার্ড শেয়ার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফটোকার্ডটি ভুয়া। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ৫ আগস্টের আগের একটি ভিডিও পুনরায় শেয়ার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভিডিওটি বর্তমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও পুরোনো ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা হতে পারে। তাই এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ এবং আন্দোলনের যৌক্তিক দাবিকে রাজনৈতিক অপপ্রচার থেকে দূরে রাখার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।






