ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরাসরি নির্দেশনায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহইয়া রহিম সাফাভি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেওয়া এক বক্তব্যে সাফাভি বলেন, ২০১১ সালে খামেনি তাকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। খবর প্রেস টিভির।
তিনি বলেন, ‘আজ যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা ১৫ বছর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনির দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছিল।’
সাফাভি জানান, সেসময় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তৎকালীন নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল আলি ফাদাভি, ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের তৎকালীন প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলি হাজিজাদেহ এবং আইআরজিসির তৎকালীন উপপ্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামির সঙ্গে মিলে তিনি ১৫ পৃষ্ঠার একটি সামরিক অভিযান পরিকল্পনা তৈরি করেন।
তার মতে, ওই পরিকল্পনায় শুধু হরমুজ প্রণালিই নয়, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে ইরান আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
এদিকে, ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ইরান। সমঝোতা অনুযায়ী, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান একটি বিশেষ নৌপথ নির্ধারণ করে এবং অন্য পথ ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করে দেয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই নির্ধারিত পথের বাইরে একটি বিকল্প করিডোর দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। ইরানের দাবি, ওয়াশিংটন আঞ্চলিক নৌ চলাচলে হস্তক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত ওই করিডোর বন্ধ থাকবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক অর্থ আয় করবে’।
ইরান ঘোষণা দিয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে।






