ঢাকা   সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

দুবাইয়ে বেনজীরের মুক্তির খবরে যা বলছে দুদক

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

দুবাইয়ে বেনজীরের মুক্তির খবরে যা বলছে দুদক

দুবাইয়ে বেনজীরের মুক্তির খবরে যা বলছে দুদক

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী। 

এ সংক্রান্ত কাজে দুদকের গাফিলতি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

রোববার (২ আগস্ট) বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বেনজীরের মুক্তির বিষয়টি দুদক পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছে। তবে আইনগতভাবে যা যা করার প্রয়োজন, দুদক তা করবে।

দুদকের মহাপরিচালক বলেন, আপনারা যেভাবে মিডিয়ায়, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছেন, আমরাও জেনেছি। আইনি যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগ নেবে। 

দুদকের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মনে হয় না। আমাদের কিছু আইনি পদক্ষেপের সেন্ট্রাল অথরিটি হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা স্বরাষ্ট্রে পাঠাই, সেখানে থেকে পররাষ্ট্র হয়ে সংশ্লিষ্ট দেশে যায়। আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। আমাদের এখান থেকে যা যা করা দরকার, যা পাঠানো দরকার আমরা। সব করেছি। 

কোন গ্রাউন্ডে বেনজীরকে ছাড়া হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা না জেনে বলতে পারছি না। 

একজন সাবেক আইজিপির বিদেশে ছাড়া পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, দুদক পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা এমএলএ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে তা পাঠানো হয়।

তথ্য নেই পুলিশের কাছেও

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ বা ইন্টারপোলের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন।

২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসে। এরপর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ওই সময় তিনি দেশ ছাড়েন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আদেশ দেন আদালত।

এর আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। 

মামলাগুলোতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। 

তার স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতি মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। এ বিষয়ে গত ১২ জুন বাংলাদেশের এনসিবিকে চিঠি দেওয়া হয়। 

ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি জানায়, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে। 

গত ১৬ জুন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র এবং অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। 

এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে পাঠানো হয়। 

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন