ঢাকা   বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

দেশে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত বাড়ছে

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

দেশে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত বাড়ছে

জাতীয় সংকট মোকাবিলা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সর্বনিম্ন খাদ্যশস্য মজুতের নির্ধারিত সীমা বাড়ানো হবে।

জানা গেছে, নিরাপত্তা মজুত পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় উঠছে। এফপিএমসির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্য সদস্যরা আগামীতে নিরাপত্তা মজুত কত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে চাল ও গম মিলে নিরাপদ খাদ্যশস্যের মজুত ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ নিরাপত্তা মজুত আরও কমপক্ষে পাঁচ লাখ টন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে এফপিএমসির সভায়। সুনির্দিষ্ট না হলেও এ মজুত ১৮ থেকে সাড়ে ১৮ লাখ টনের মধ্যে হতে পারে। বর্তমানে খাদ্যশস্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিতরণের তথ্য বিশ্লেষণ করে এফপিএমসি কমিটি এটি চূড়ান্ত করবেন।

সরকার খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত রাখে মূলত জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। মূলত, দেশে কোনো দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা—যেন বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা যায়।

এছাড়া খাদ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, উৎপাদন কম হলে খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য মজুতকৃত এসব খাদ্য ব্যবহার করা হয়।

একটি দেশের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা মজুত বাড়লে সেদেশের খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণের সীমাও বাড়ে। ফলে বেড়ে যায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতাও।

খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুতের বিষয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ ২০২২ সালে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় নিরাপত্তা মজুত সাড়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছিল। এরপর দেশের উৎপাদন, চাহিদা, সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এসব বিবেচনায় নিরাপত্তা মজুত আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নতুন মজুতের পরিমাণ কত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কমিটি।

দেশে সরকারি খাদ্যশস্য মজুত, সংরক্ষণ ও বিতরণের কাজ করে খাদ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্য মজুত পরিস্থিতি খুব ভালো। আমরা অতীতের মজুতের সব রেকর্ড ভেঙেছি। বোরো সংগ্রহ শেষে এ মজুত আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, সরকারি বিতরণ কার্যক্রমও বাড়ছে। আমাদের সংগ্রহের সক্ষমতাও আগের চেয়ে বেড়েছে। যে কারণে নিরাপত্তা মজুত বাড়ানো প্রাসঙ্গিক।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে খাদ্য মজুতের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। এরমধ্যে চাল ১৯ লাখ ৬৬ হাজার টন, গম ২ লাখ ৮০ হাজার টন এবং ধান রয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার টন।

এ বিষয়ে সাবেক কৃষি সচিব ও কৃষি বিশেষজ্ঞ আনোয়ার ফারুক বলেন, সর্বশেষ খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় চার বছর আগে। এ সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে, পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, নিরাপত্তা মজুত বৃদ্ধি পেলে খাদ্যশস্য বিতরণও বাড়বে, যা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

বার্তা বাজার/আইকে

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন