বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে।
রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা)’ আয়োজন উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বিজিএমইএর মধ্যে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মাহমুদ হাসান খান।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, শিল্পে নিয়মিত কিছু কারখানা বন্ধ হয়, আবার নতুন কারখানাও চালু হয়- এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। তবে শিল্পের প্রকৃত অগ্রগতি মূল্যায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান বাড়ছে নাকি কমছে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সম্প্রতি প্রায় ১৩৯টি নতুন কারখানা শিল্পে যুক্ত হয়েছে। এটি কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। তবে গত দুই বছরে যেসব কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেগুলোর কারণে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমে গেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জের কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়েছে।
‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি, দেশের নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দক্ষতার ঘাটতি এবং ব্যাংকগুলোর হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন— সব মিলিয়েই কিছু কারখানা সংকটে পড়েছে’-উল্লেখ করেন তিনি।
ইতিবাচক দিক তুলে ধরে মাহমুদ হাসান খান বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হলেও নতুন কারখানা চালু হচ্ছে এবং সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। যেসব শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই এরই মধ্যে অন্য কারখানায় যোগ দিয়েছেন। কেউ দেশের বাইরে চাকরি নিয়েছেন, আবার কেউ অন্য পেশায় চলে গেছেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান জ্বালানি সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে।তিনি বলেন, সরকার জানিয়েছে, আগামী ৮ বা ৯ আগস্ট থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে। এ সংকটে আর্থিক ক্ষতি তো হয়েছেই, তবে তার চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো— আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা যেন ক্ষুণ্ন না হয়। এ কারণে বাংলাদেশে কার্যরত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংগঠন বায়ার্স ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জানানো, তাদের প্রত্যাশা বোঝা এবং কীভাবে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
জুলাই মাসে রপ্তানি কিছুটা কমেছে বলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কারণ চলতি বছরের জুলাইয়ের রপ্তানি তুলনা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে, যা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির মাস ছিল।






