বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আজ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে বললেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, আমাদের গেরিলা যুদ্ধে আস্তানা চিনিয়ে দিয়েছে, তাদের কোনো বীরত্ব-এর ইতিহাস নাই তাদের আছে দালালির ইতিহাস, স্বাধীনতার পরেও তারা সুবিধা নিয়েছে আর দালালি করেছে।
সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমার পরিচিতি বাংলাদেশি, এটা ৭১-এর অর্জন। আমরা তাঁদের উত্তরসূরি, যারা সীমান্তের যুদ্ধ করেছে।’
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা কারা করছে, সে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ‘যারা সেদিন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। এদের বীরত্বের ইতিহাস নাই, শুধু আছে দালালীর ইতিহাস।’
রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের কৃপা পাওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী সব সময় চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গেছে। ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনে হুমকি দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন করার জন্য বাধ্য করেছে।’
তিনি আরও বলেন, জামায়াত জোরেশোরে বলেছে, পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে। রিজভীর ভাষায়, ‘যারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে, যে ভারতে প্রতিদিন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এক কোটির মতো মুসলমানদের তাড়িয়ে দিবে, যারা ইসরাইলকে তাদের পিতৃভূমি বলে, তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলাম আঁতাত করতে চায়।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রধানের বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সেখানে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা’র কোনো ছবি নেই। সেখানে ৭ মার্চের শেখ মুজিবের ভাষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, ‘এখানেই বোঝা যায়।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের দাঁড়িপাল্লা আঁকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ‘৭১ কে হালকা করে দেখিয়েছে। এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তিনি বলেন, ‘একাত্তরের চেতনা আমাদের বুকের মধ্যে ছিল বলেই আমাদের সন্তানেরা ২৪ এ শেখ হাসিনার মত ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়ে দিয়েছে।’
রিজভী আরও বলেন, ‘আজকে খুবই চক্রান্তমূলকভাবে কোনটা বড় কোনটা ছোট এটা যাচাই করার চেষ্টা করছেন। এটাতে কোন লাভ হবে না। এই জাতি স্বাধীনতা রক্ষা করতে জানে।’
এসময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি জাহেদুল হক শামীম ও সহসভাপতি ড. কে এম আই মন্টি উপস্থিত ছিলেন।
৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘একাত্তর গৌরবদীপ্ত বলেই আমাদের সন্তানরা ভয়ংকর রক্ত পিপাসু হাসিনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে পেরেছে।’






