ঢাকা   মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বৃদ্ধাশ্রমে বাবার শেষকৃত্যেও এলেন না সন্তানরা, চাইলেন শুধু মৃত্যুসনদ

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

বৃদ্ধাশ্রমে বাবার শেষকৃত্যেও এলেন না সন্তানরা, চাইলেন শুধু মৃত্যুসনদ

ভারতের ভোপালের একটি বৃদ্ধাশ্রমে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ দুই দিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছিল। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল পরিবারের কেউ অন্তত শেষকৃত্যে অংশ নিতে আসবেন। কিন্তু তার মেয়ে আসতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান এবং ছেলে জানান তিনি আসতে অক্ষম। উল্টো তারা বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে কেবল মৃত্যুসনদ পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

‘আপনা ঘর’ নামের ওই বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থাপক মাধুরী মিশ্র জানান, গত ৪ আগস্ট ঘনশ্যাম নামের ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তার পরিবারের আদি নিবাস ইন্দোরে। মৃত্যুর পর পরিবারকে খবর দেওয়া হলেও কেউ আসেনি। দীর্ঘ সময় মৃতদেহ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও তারা স্বজনদের আশায় দুই দিন মৃতদেহ রেখে দিয়েছিলেন। অবশেষে পরিবারের কেউ না আসায় পুলিশের সহায়তায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতের মেয়ে বলেছেন তার বাবা সব সম্পত্তি তার ভাইকে দিয়ে গেছেন এবং ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয়। সম্পত্তি থেকে কিছুই না পাওয়ায় তিনি শেষকৃত্যে কেন যাবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, ছেলেও নানা অজুহাত দেখান। কখনো ট্রেনের টিকিট নেই, আবার কখনো বাসের টিকিট নেই বলে জানান তিনি। এমনকি তিনি এমনও মন্তব্য করেন যে, “বাবা আমাদের জন্য কী করেছেন?” পরবর্তীতে পরিবারটি মৃত্যুসনদ দাবি করলে মাধুরী মিশ্র তাতে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, শেষকৃত্যে অংশ না নিয়ে পরিবারের এভাবে সনদ দাবি করা অনুচিত।

বৃদ্ধাশ্রম সূত্রে জানা যায়, ঘনশ্যাম একসময় সাইকেলের টায়ার ও টিউবের পাইকারি ব্যবসা করতেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তিনি সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে যা উপার্জন করেছিলেন, তা সন্তানদের মধ্যেই ভাগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষ দিনগুলো তাকে এই বৃদ্ধাশ্রমেই কাটাতে হয়।

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রবীণদের নিয়ে কাজ করা মাধুরী মিশ্র জানান, সমাজে প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীলতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেক পরিবারে বাবা-মাকে তাদের উপযোগিতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়। তিনি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এমন আরও অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা দেখেছেন, যেখানে সন্তানরা বাবা-মাকে রাস্তায় ফেলে যায়, গয়না বা সম্পদ কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, কিংবা পরিচয় গোপন করতে বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র নিজেদের কাছে রেখে দেয়।

সূত্র: ভাস্কর ইংলিশ

বার্তা বাজার/ আইকে

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন