ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বনির্ধারিত রোটেশনের অংশ হিসেবে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হবে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
লাইভমিন্ট ও লাইভস্কোয়াকের তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৫০ দিনের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে। ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ এবং মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তার কারণে রণতরীটি টানা প্রায় ২০০ দিন কোনো বন্দরে নোঙর করতে পারেনি।
দীর্ঘ এই মোতায়েনের ফলে জাহাজের নাবিকদের জীবনযাত্রার মান এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ অন্যান্য নেতারা জাহাজে মৌলিক সরবরাহের ঘাটতি, দূষিত পানি, প্লাম্বিং সমস্যা এবং ডাক ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার মতো বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও রসদ সংকটের খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত’ বলে আখ্যা দিয়ে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও নৌবাহিনী স্বীকার করেছে যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পথগুলো বিঘ্নিত হয়েছে, যার ফলে জাহাজটিতে সাময়িক রসদ সমস্যা দেখা দেয়।
এদিকে নতুন রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ সম্প্রতি ভিয়েতনামের দা নাং ছেড়ে সিঙ্গাপুর প্রণালি হয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই রণতরিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর ফলে সাময়িকভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন নৌ-উপস্থিতি কিছুটা কমতে পারে, যা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মার্কিন প্রশাসন ওই অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় নজর দিচ্ছে।
বার্তা বাজার/ আইকে






