পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
আজ রোববার সকালে বীরভূম জেলার রামপুরহাট শহরের হাততালাপাড়ায় নিজ বাড়ির পাশে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
আশিস ব্যানার্জি ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তিনি মমতার মন্ত্রিসভাতেও ঠাঁই পেয়েছিলেন। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভায় ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৬ সালেও তাকে টিকিট দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থীর কাছে ২৪ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান আশিস। তারপর থেকে রাজনীতিতে তাকে আর তেমন সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। পরাজয়ের পর তৃণমূলের অন্যান্য নেতাদের মতো তার বিরুদ্ধেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে।
রামপুরহাটের পাঁচবারের বিধায়ক আশিসের মরদেহের কাছে পাওয়া চিরকুটে লেখা ছিল ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ চিরকুটে তিনি এও দাবি করেন, তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।
নিজের রাজনীতিতে আসা নিয়ে আক্ষেপও করেছেন আশিস। পরিবারের সদস্যদের কাউকে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, দলের অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও তিনি কখনও প্রতিবাদ করতে পারেননি।
আশিস লেখেন, ‘ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ’ তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে ছোট করার জন্য অনেক কিছু করা হয়েছে।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, ‘টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমাকে অপমান (ম্যালাইন) করার জন্য যা সব করা হলো, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক।’
বার্তা বাজার/এআর






