ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সিগারেট বাকি না দেওয়ায় এক দোকানিকে ‘দেখে নেওয়া ও ছুরি জাতীয় অস্ত্র দেখিয়ে’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চারুকলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বিরুদ্ধে। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী দোকানি জসীম শেখ।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন সংলগ্ন লিচু বাগানে ‘আর কে কফি হাউস’ নামক জসীম শেখের টি স্টল রয়েছে। গত ১৮ আগস্ট সকাল ১০ টার দিকে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদ বিশ্বাস দোকান থেকে সিগারেট কিনে। ওইদিন টাকা না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে চলে যান। পরের দিন আবারও বকেয়া সিগারেট নেয়। তখন বকেয়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকানির সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ায় এবং হুমকি দেয় ওই শিক্ষার্থী। ঘটনা জানাজানি হলে বকেয়া পরিশোধ করেন তিনি।
এদিকে প্রক্টর বরাবর দেওয়া অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগী দোকানি উল্লেখ করেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রশাসনের অনুমোদিত একটি চা-কফির দোকান চালায়, যা নিয়মিত দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিয়ে থাকি। গত ১৮ আগস্টে আনুমানিক বেলা ১০ দিকে ফাইন আর্টস (চারুকলা) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শাহেদ বিশ্বাস নামের এক ছেলে আমার দোকানে আসে এবং কিছু পণ্য নেয়। পণ্য নিয়ে কিছু না বলে চলে যায়, তখন আমি পূর্বের বাকিসহ টাকা চাইলে আমার উপর চড়াও হয়ে উঠে এবং অনেক হুমকি ধামকি দেখায়, এক পর্যায়ে ছুরি জাতীয় ডেকার বের করে আমাকে আঘাত করতে গেলে আমি দূরে সরে গিয়ে নিজেকে আত্মরক্ষা করি। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবগত করি। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১ টায় আমাকে ফোন দিয়ে প্রথমে সরি বলে, কিন্তু ফোন রাখার সময় আবার বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয় এবং বলে ‘পরে দেখে নিবো’। এমতাবস্থায় আমার দোকান এবং আমি হুমকির মধ্যে আছি।
ভুক্তভোগী দোকানি জসীম শেখ বলন, ছেলেটি আগে ২টি সিগারেট নিয়ে চলে গেছে। পরেরদিন এসে আবারও দু’টি সিগারেট নিল। আগের দুটির টাকা চাইলে অস্বীকার করে। তাও আমি বললাম, ‘আগের টাকা দিতে হবে না, বর্তমানের টাকা দেন’। আমি বললাম আ৷ বাকি দিব না। সে বলে, ‘আমি বাকি নিব, আপনাকে দিতে হবে।’ পরে বাকবিতন্ডায় সে ছুরি জাতীয় কিছু একটা বের করে গালি দিয়ে বলে যে, ‘একটু পুশ দিয়ে দিমু’। পরে রাতে কল দিয়েও দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। তখন নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টর স্যারকে জানিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নিবে তাই মেনে নিব।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শাহেদ বিশ্বাস বলেন, আমি একটা সিগারেট নেওয়ার পর ৪টার বাস চলে যাওয়ায় তাড়াহুড়ো করে বিদায় নিলাম। পরে এসে দেখি ওনি দুইটি সিগারেটের কথা বলছিল। এই নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। রাফিজ আহমেদও (ছাত্রদলের সদস্য সচিব) দোকানে ডেকে মীমাংসা করে দিয়েছে। আমি সরি বলেছি। দোকানি মামাকে রাতে কল দিয়েও সরি বলেছি। তাঁর সঙ্গে পুনরায় দেখা করবো বলেছি। এটা নাকি তাঁর কাছে হুমকি হয়ে গেল। এছাড়া আমি যেহেতু চারুকলায় পড়ি, সঙ্গে পেন্সিল কাট ছিল। ওটাকে অস্ত্র হিসেবে প্রচার করছে মামা। ঘটনাস্থলে অরুণ সহ এক বান্ধবী ছিল।
সমাধান করে দেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ জানান, এক শিক্ষার্থী ১০ টাকার কারণে এরকম একটা ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাকে অবগত করে৷ প্রথমে আমলে নেইনি। সে কখন কিভাবে আমার নাম জড়িয়ে দিল তা তো বুঝতেছি না। আমি তো মীমাংসা করে দেয়নি। এগুলো শুনে অবাক হলাম। সে না আমাদের কর্মী বা না পরিচিত কেউ।
অভিযুক্তের বন্ধু অরুণ বলেন, তারা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে গেলে আমি হেঁটে যাওয়ার সময় অবলোকন করেছি৷ হাতে কী ছিল স্পষ্ট দেখিনি।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, এর আগেও বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে ছেলেটা উগ্রতা দেখিয়েছে। একজনের কারণে বিভাগের দুর্নাম হচ্ছে। এটা কখনও কাম্য নয়।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমার কাছে অভিযোগপত্র এসেছে৷ বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করছি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।






