দুই বছর পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। এ উপলক্ষে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘নৌকা বাইচ-২০২৬’ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নৌকা বাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় নৌকা বাইচকে ঝাঁকঝমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আয়োজনকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংস্কৃতির শহর। জেলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও লোকজ আয়োজনের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। তবে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড করা যাবে না। বাইচ উপভোগকারীরা তাদের নৌকায় সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবেন না। পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নাচানাচিও করা যাবে না।
সভায় জানানো হয়, এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ দুই বছর পর এবারের আয়োজনকে ঘিরে জেলার মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে নৌকা বাইচ আয়োজন করতে চাই। এ আয়োজন যাতে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসাইন আকন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানিম শাহেদ রিপন, সাংবাদিক পীযুষ কান্তি আচার্য ও আল-আমিন শাহিন, নৌকা বাইচ সংগঠক অ্যাডভোকেট মো. ইসহাকসহ সংশ্লিষ্টরা।
সভায় নৌকা বাইচের সার্বিক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, আয়োজনের সৌন্দর্য এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে বাইচ উপভোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।






