ঢাকা   বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

২০৩০ সালের আগে সব ধর্মীয় উপাসনালয় সম্মানিভাতার আওতায় আসবে: রাষ্ট্রপতি

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

২০৩০ সালের আগে সব ধর্মীয় উপাসনালয় সম্মানিভাতার আওতায় আসবে: রাষ্ট্রপতি

২০৩০ সালের আগে দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় মাসিক সম্মানিভাতার আওতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ মঙ্গলবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানিভাতা দেয়া শুরু হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সেবাদানকারীদেরও সম্মানিভাতা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, ২০৩০ সালের আগে প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় মাসিক সম্মানিভাতার আওতায় আসবে।’

বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে জাতীয় জীবনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’’ সংযোজন করেন। পাশাপাশি চারটি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেন।’তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ইমামদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মসজিদ, ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামি নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার পরিধি বেড়েছে।’

বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ধর্মের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির মর্মবাণী ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ। যুগ যুগ ধরে এ দেশের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন, সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করবেন এবং ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত্তি হবে।’

সমাজ সংস্কারে আলেম-ওলামাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মসজিদের মিম্বর থেকে আপনারা কোটি মানুষের কাছে সত্য, ন্যায় ও মানবতার বাণী পৌঁছে দেন। সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, গুজব, নারী ও শিশু নির্যাতন দূর করতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইনের (কায়কোবাদ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, বায়তুল মোকাররমের খতিব, দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন