ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে যে আদেশ জারি করল সরকার
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’ জারি করেছে সরকার। এতে ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শিথিল করার পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ আকর্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিতে বাণিজ্য প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, ব্যাংকিং জটিলতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
নতুন আমদানি নীতির অন্যতম বড় পরিবর্তন এসেছে এলসি ছাড়া পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে। আগের নীতিতে বাণিজ্যিক আমদানিকারকেরা ‘সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে এলসি ছাড়া পণ্য আমদানি করতে পারতেন। তবে এ ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলারের সীমা ছিল। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে আলাদা সীমা ও শর্তও প্রযোজ্য ছিল।
নতুন আদেশে সেই মূল্যসীমা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ‘সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে এলসি ছাড়াই আমদানির সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো।
আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন নীতিতে প্রথমবারের মতো মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ এবং ‘সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস’ প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন আমদানি নীতিতে প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত শিল্পের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে শিল্প ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত আধুনিক অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কার্যকর হবে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে রপ্তানিমুখী বিভিন্ন শিল্পে ‘ফ্রি অব কস্ট’ ভিত্তিতে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।
এর ফলে রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন পণ্য ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
নতুন আমদানি নীতিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যব্যবস্থার সামঞ্জস্য আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) কিংবা প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন আমদানি নীতির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। একই সঙ্গে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন নীতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।






