ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঞ্চে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত নেত্রীর নাইলা বেগমকে প্রথম সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
তথ্যনুযায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালে নায়লা বেগমকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসন থেকে এনসিপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
তবে এনসিপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়ে তিনি পুনরায় মহিলা দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে নবীনগরে বিএনপির ব্যানারে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন।
বহিষ্কারের আদেশ এখনো বহাল থাকা সত্ত্বেও ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেলে নবীনগর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ শোভাযাত্রায় উপজেলা নেতাদের সঙ্গে অংশ নেন নাইলা। পরবর্তীতে নবীনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে মঞ্চের প্রথম সারিতে বসে খোশমেজাজে থাকতে দেখা যায়।
দল থেকে বহিষ্কৃত ও অন্য দলে যোগ দেওয়া একজন নেত্রী কীভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি, দলীয় এমপি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশে প্রকাশ্যে আসন পাচ্ছেন-তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া নিজ কর্মস্থল ডেমরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পেয়েছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। অন্যদিকে, দল থেকে বহিষ্কার ও এনসিপিতে যোগদানের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে আমার দেশ প্রতিনিধি ও নবীনগর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন মনিরের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সালেহা আক্তার জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের যৌথ স্বাক্ষরে নায়লা বেগমকে বহিষ্কার করা হয় এবং সেই আদেশ এখনও বহাল রয়েছে।
এনসিপিতে নায়লা বেগমের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ।
বহিষ্কৃত নেত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে দলের মহাসচিবকে অবহিত করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে বক্তব্যের জন্য নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।






