যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে করা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও নথি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে চুক্তির শর্ত, মূল্য, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য জনসাধারণের জানার সুযোগ দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএমজি সারওয়ার পায়েল এই নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব, অর্থ সচিব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবরে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার জন্য একটি চুক্তি করেছে।
এতে বিপুল পরিমাণ জনসাধারণের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, আর্থিক যৌক্তিকতা এবং জনস্বার্থ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাব, যেমন এয়ারবাসের অফারের অস্তিত্ব বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, বোয়িং বিমান কেনার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে কি না অথবা নতুন কোনো ক্রয় বা লিজের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন যাচাই-ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং আর্থিক ও জনস্বার্থ মূল্যায়ন-সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো হয়েছে।এ ছাড়া যেকোনো ক্রয় প্রক্রিয়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে সম্পন্ন করার কথাও বলা হয়েছে।
নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ জবাব না পেলে সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনসাধারণের অর্থ সুরক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।






