জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আজ সোমবার দুপুরে পিরোজপুরে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, এনসিপি নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিজেরাই নির্ধারণ করবে। বিএনপি যদি তাদের কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা করে, তাহলে এর পরিণতি ভালো হবে না।
সারজিস আলম বলেন, এনসিপি কোনোভাবেই জাতীয় পার্টির মতো ‘পোষা বিরোধী দল’ হিসেবে রাজনীতি করবে না। বিএনপিকেও এমন প্রত্যাশা না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এনসিপি কীভাবে কর্মসূচি পালন করবে, সে বিষয়ে তাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শের প্রয়োজন নেই। এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিকে কেউ ‘লং মার্চ’, কেউ ‘রোড মার্চ’ আবার কেউ ‘লং ড্রাইভ’ বলছেন উল্লেখ করে সারজিস বলেন, এটিকে যদি লং ড্রাইভ বলা হয়, তাহলে খালেদা জিয়ার কর্মসূচিকেও একই নামে অভিহিত করতে হবে। আর খালেদা জিয়ার কর্মসূচি যদি লং মার্চ হয়ে থাকে, তাহলে এনসিপির কর্মসূচিকেও লং মার্চ বলতে হবে।
বিএনপির অতীত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস বলেন, বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি সফল হতে পারেনি। তারা যখন ‘মার্চ টু ডেমোক্রেসি’র ঘোষণা দিয়েছিল, তখন একটি বালুর ট্রাক দিয়েই তাদের লং মার্চ আটকে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সেই ট্রাক সরাতেও তারা সক্ষম হয়নি। তাই ওই সময়ের ব্যর্থ বিরোধী দলের কাছ থেকে এনসিপিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা নিতে হবে না।
এনসিপির এক নেতার বিরুদ্ধে করা মামলার প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আরো বলেন, ওই নেতা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে গিয়ে যে ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, সেটিকে এনসিপি সমর্থন করেনি। দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এখনো তিনি জামিন পাননি বলেও দাবি করেন সারজিস।
তারেক রহমানের বাকস্বাধীনতা নিয়ে বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে স্বাধীনভাবে সমালোচনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সমালোচনা করলেই মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটছে-এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সারজিস বলেন, সিফাত নামে ওই তরুণের ব্যবহৃত গালিগালাজকে এনসিপি সমর্থন করে না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, সেটিকে তিনি মিথ্যা মামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।





