জাতীয় সংসদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চলছিল। জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমাদের মন্ত্রী (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ) অলরাউন্ডার। দুষ্টু লোকেরা নয়, ভালো লোকেরা বলে-উনি এই সংসদের একজন ড্যাশিং হিরো।
আজ সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপনের সময় রেহানা আক্তার এ মন্তব্য করেন।
সড়কে বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ চুরি রোধে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবটি এদিন সংসদে উত্থাপন করেছিলেন রেহানা আক্তার রানু। তার প্রস্তাবের ওপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেন। এরপর স্পিকার তাকে সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ দিলে এমন মন্তব্য করেন এমপি রানু।
এসময় নিজের প্রস্তাবের বিষয়টি আরেকবার স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার যে বিষয়, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ বলিনি, আমি বলেছি চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে।’
এসময় বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘এই রিয়েল হিরোকে খলনায়িকা হাসিনা শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসিনা জানত না যে, রাখে আল্লাহ মারে কে।’
এরপর তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৮০ লাখ রিকশা রাস্তায় চলছে এবং প্রতিদিন ঢাকা শহরে নতুন করে আরও ৩০০ অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে। প্রতিদিন এসব রিকশা চার্জিংয়ের জন্য ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যা বর্তমান লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেয়ার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।তবে এই খাতের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত থাকার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে এমপি রানু বলেন, ‘বিকল্প বা পরিকল্পিত ব্যবস্থা না করে এসব যান জব্দ (ডাম্পিং) করা বা চালকদের পুলিশি হয়রানি করা ঠিক হবে না।’ বিকল্প হিসেবে তিনি প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে এসব যানকে ভেতরের রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করা, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া, বিআরটিএর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এবং ঢাকা শহরে অঞ্চলভিত্তিক (জোন) চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।






