জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’-এর বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বিলটিকে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী ও ধর্মীয় মূল্যবোধ পরিপন্থি দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে ইসলামের মৌলিক বিধান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় আলেম-উলামা, ফকিহ, মুফতি ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞসহ সর্বস্তরের জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব কথা বলেন।বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে ইসলাম ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস করা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের ওপর আঘাতের শামিল।
তারা বলেন, পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং প্রচলিত শরিয়াহ ব্যাখ্যা অনুযায়ী হেবা সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রহীতার কাছে সম্পত্তির দখল হস্তান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। অথচ নতুন আইনে মালিকানা হস্তান্তরের পরও দাতার আজীবন ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি হেবা ও মালিকানা হস্তান্তর বিষয়ে শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, ইসলামের উত্তরাধিকার আইনের বিষয়ে কোনো স্বীকৃত ফকিহ, মুফতি ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞের মতামত না নিয়ে আইনমন্ত্রী নিজের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে তড়িঘড়ি করে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আইন পাস করেছেন।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থি কোনো আইন করা হবে না এবং মদিনা সনদের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে বলে শাসকগোষ্ঠী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাদের দাবি, এর আগে বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শরিয়া আইনকে ‘মধ্যযুগীয় আইন’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
নেতারা বলেন, ‘এ দেশে ইসলামের মৌলিক বিধানের পরিপন্থি কোনো আইনই মেনে নেওয়া হবে না।’
অবিলম্বে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’-এর বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানিয়ে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, ইসলামের মৌলিক বিধান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, ফকিহ, মুফতি ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞসহ সর্বস্তরের জনগণকে সোচ্চার হতে হবে।






