ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন পাসে ‘তড়িঘড়ি’ করা হয়েছে: মামুনুল হক

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ এএম

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন পাসে ‘তড়িঘড়ি’ করা হয়েছে: মামুনুল হক

জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধানসংবলিত ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংসদে তড়িঘড়ি করে এ আইন পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ দাবি জানান।

মামুনুল হক বলেন, ‘সংসদে সদ্য পাস হওয়া আইনটির কয়েকটি ধারা ইসলামের হেবা ও ফারায়েজ–সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের এই নতুন বিধানটি শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।’

মামুনুল হক বলেন, ‘বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলেও সে জন্য এমন কোনো বিধান করা উচিত নয়, যা শরিয়াহ নির্ধারিত উত্তরাধিকার ও হেবার নীতিকে পাশ কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। তার মতে, জীবিত অবস্থায় হেবা এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন দুটি পৃথক বিষয়। নতুন আইন যেন কোনো ওয়ারিশকে তার শরিয়াহ নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি দাবি করেন, ‘ইসলামে হেবার ক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তরের পাশাপাশি সম্পত্তির বাস্তব দখল ও কর্তৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু নতুন আইনে সরকার বলছে সাধারণ হেবা বা মুসলিম আইনের হেবাকে প্রভাবিত করবে না। প্রশ্ন হলো-বাস্তবে এই আইন কি হেবার শরয়ী কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে না? বিশেষ করে দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখে যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তাহলে প্রকৃত কবয, পূর্ণ মালিকানা এবং হস্তান্তরের চূড়ান্ততা নিয়ে গুরুতর শরয়ী প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।’

খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, ‘হেবার নামে নির্দিষ্ট কোনো উত্তরাধিকারীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা ইসলামের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি থাকলেও বিলটি দ্রুত পাস করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকারে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সমুন্নত রাখা এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে ইসলামবিরোধী কোনো আইন না করার অঙ্গীকারের কথাও বলা হয়েছে। তাহলে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের মতো সুস্পষ্ট শরিয়াহ বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইন এত দ্রুত পাস করা হলো কেন?’

মামুনুল হক আইনটির ১২২-এ ও ১২২-বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে আলেম, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তবে তা করতে গিয়ে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজ–সংক্রান্ত বিধানকে দুর্বল করা উচিত হবে না।’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন